রায়েরবাগ-কদমতলী রুটে অটোরিকশায় চাঁদা দাবির অভিযোগ, ভাঙচুর
ঢাকা: রাজধানীর মাতুয়াইলের রায়েরবাগ থেকে মেরাজনগর, মোহাম্মদবাগ, কদমতলী, পাকরামাথা হয়ে শহীদবাজার-আমতলা পর্যন্ত চলাচলকারী অটোরিকশায় নতুন করে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে বুধবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত কয়েক দফায় উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এ রুটে প্রায় ৬০০ থেকে ৮০০টি অটোরিকশা চলাচল করে এবং প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রী এসব গাড়িতে যাতায়াত করেন। তাদের অভিযোগ, গত ৫ আগস্টের আগে প্রতিটি গাড়ি থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করা হতো। ৫ আগস্টের পর শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে ওই চাঁদা আদায় বন্ধ হয়ে যায় এবং এরপর থেকে দীর্ঘদিন কোনো চাঁদা নেওয়া হয়নি বলে দাবি তাদের।
তবে আজ আবার প্রতিটি অটোরিকশা থেকে ৩০ টাকা করে চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের দাবি, চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় আপান বাজার এলাকায় কয়েকটি অটোরিকশার কাচ ভাঙচুর করা হয়। এখন পর্যন্ত স্থানীয়দের কাছ থেকে ৪ থেকে ৫টি গাড়ির কাচ ভাঙার তথ্য পাওয়া গেছে।
স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, গত দুই দিন ধরে ‘লাইনম্যানের বস’ হিসেবে পরিচিত জাহাঙ্গীর নামের এক ব্যক্তি সড়কে শৃঙ্খলা রক্ষার কথা বলে অবস্থান করছিলেন। স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করছেন, অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে চাঁদা তোলার অভিযোগ ছিল। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন কোনো সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।
চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে কদমতলী থানার সামনেও কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়দের মধ্যে খবর ছড়িয়েছে। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্র থেকে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দুপুর ১টা থেকে বিকেল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে উত্তেজনা ও সংঘর্ষ চলতে থাকে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
অটোরিকশা চালক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, নতুন করে নিয়মিত চাঁদা আদায় শুরু হলে এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত যাত্রীদের ওপর পড়তে পারে। চাঁদার অর্থ সমন্বয় করতে অটোরিকশার ভাড়া বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে এবং এতে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়বে বলে তারা মনে করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা অটোরিকশা থেকে যেকোনো ধরনের চাঁদা আদায় বন্ধ এবং এ ধরনের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তবে প্রতিবেদনে উল্লেখিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, অটোরিকশা মালিক-শ্রমিক সংগঠন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর স্বাধীন সত্যতাও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

✍️ মন্তব্য লিখুন