নিজস্ব প্রতিবেদক
মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সমাধানের আশায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে। বুধবারও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দুই সপ্তাহের কাছাকাছি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ের আশপাশে ছিল।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের কার্যক্রম পুনরায় শুরু করায় উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল সরবরাহ বাড়ার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। পাইপলাইনটি সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পথ।
বুধবার গ্রিনিচ মান সময় সকাল ৪টা ২১ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ০৯ ডলার বা ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৮ দশমিক ১৬ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ১ দশমিক ৫০ ডলার বা ১ দশমিক ৬৭ শতাংশ কমে ৮৯ দশমিক ০১ ডলারে দাঁড়ায়। দুই ধরনের তেলের দামই টানা ষষ্ঠ দিনের মতো কমেছে।
এর আগে মঙ্গলবার ব্রেন্টের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের নিচে নেমে আসে। ৮ সেপ্টেম্বরের পর ওই দিনই প্রথমবারের মতো ব্রেন্টের দাম ১০০ ডলারের নিচে ছিল।
তেলের দামে চাপ তৈরির আরেকটি কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে ঘিরে নিউইয়র্কে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা এবং সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধানের আশা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি তৈরি করেছে।
এদিকে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ কমালে এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ তুলে নিলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া সম্ভব হতে পারে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে সংঘাতের আগে বৈশ্বিক তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হতো।
তবে বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতির আশা তৈরি হলেও জ্বালানি পণ্যের সংকট পুরোপুরি কাটেনি। বিশেষ করে ডিজেলের সরবরাহ এখনো চাপের মধ্যে রয়েছে বলে বাজার বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কূটনৈতিক তৎপরতার অগ্রগতি আগামী দিনগুলোতে তেলের বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে।
✍️ মন্তব্য লিখুন