নিজস্ব প্রতিবেদক
নোয়াখালী ও টাঙ্গাইলে সেতু নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তিন কর্মকর্তা–কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন প্রকৌশলীদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং ঘটনাগুলো তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বুধবার এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেনের সই করা পৃথক অফিস আদেশে এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়। নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে একটি নির্মাণাধীন সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব ও রেলিংয়ে রড ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগে উপসহকারী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম ও কার্যসহকারী মো. মহিন উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী বিধিমালা অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় নোয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী যুগল কৃষ্ণ মণ্ডল ও বেগমগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আবুল মনছুর আহমেদের কাছে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সাত কর্মদিবসের মধ্যে তাঁদের লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এলজিইডির নোয়াখালী অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীকে। তাঁকেও সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
টাঙ্গাইলে রডের বদলে বাঁশ
অন্যদিকে, টাঙ্গাইলের বাসাইল পৌরসভার মাইজখাড়া এলাকায় মরাগাঙ্গী নদীর ওপর নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব তৈরিতে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। সেতুটির দৈর্ঘ্য ৯০ দশমিক ৬ মিটার এবং নির্মাণব্যয় প্রায় ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা। কাজটি করছে মেসার্স ইউনুছ আল মামুন ও মেসার্স জাকির এন্টারপ্রাইজের যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
স্থানীয় লোকজন রাতে সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব ঢালাইয়ে বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টি দেখতে পান। পরে এর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। এরপর প্রশাসন ও এলজিইডির কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ ঘটনায় একজন সাব-ঠিকাদারকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।
এ ঘটনায় বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের কার্যসহকারী মো. হাসমত আলীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এর আগে একই ঘটনায় উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলী ও উপজেলা প্রকৌশলীর কাছেও ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিল।
সর্বশেষ বৃহস্পতিবার বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমানকে স্ট্যান্ড রিলিজ করে বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। তাঁকে ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে বলা হয়েছে।
এদিকে টাঙ্গাইলের ঘটনায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে।
এলজিইডি জানিয়েছে, নির্মাণকাজে নির্ধারিত উপকরণের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বে অবহেলার বিষয়গুলো তদন্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
✍️ মন্তব্য লিখুন