সোহেল তালুকদার, টাঙ্গাইল
টাঙ্গাইলের বাসাইলে ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব ঢালাইয়ে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের ঘটনায় উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমানকে বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলায় বদলি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে তাঁকে তাৎক্ষণিক অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজ) করা হয়।
অফিস আদেশ অনুযায়ী, কাজী ফাত্তাউর রহমানকে বাসাইল উপজেলা থেকে বান্দরবান জেলার রোয়াংছড়ি উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাঁকে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন উপজেলা প্রকৌশলী পদায়ন না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে আর্থিক ক্ষমতাসহ অতিরিক্ত দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে।
তদন্তে দুদক
বাঁশ ব্যবহারের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি তদন্তে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার দুদক টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়ের একটি দল সেতুটি পরিদর্শন করে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সহকারী পরিচালক মো. বিপ্লব হোসেন।
দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব ও রেলিংয়ের পিলার পরীক্ষা করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে কিছু অংশে প্রয়োজনের তুলনায় রডের পরিমাণ কম পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়। বিস্তারিত কারিগরি প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপসহকারী প্রকৌশলী সাময়িক বরখাস্ত
একই ঘটনায় বাসাইল উপজেলা এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে টাঙ্গাইল জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জাহানারা পারভীন ও উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার তদন্তে বাসাইল উপজেলা প্রশাসন তিন সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করেছে। এদিকে উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান বাদী হয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মামলায় ঠিকাদার এস এম জাহাঙ্গীর আলম ও সাব-ঠিকাদার শাহ আলমকে আসামি করা হয়েছে।
১০ কোটি টাকার সেতুর কাজ
বাসাইল পৌরসভার মাইজখাড়া এলাকায় মরাগাঙ্গী নদীর ওপর সেতুটির নির্মাণকাজ চলছে। বাসাইল জিসি-কাউলজানী ইউপি অফিস ভায়া মাইজখাড়া জিপিএস সড়কের এই সেতুটির দৈর্ঘ্য ৯০ দশমিক ৬ মিটার। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে কাজ শুরু হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হওয়ায় মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে সেতুটির প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ২০ সেপ্টেম্বর রাতে সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব তৈরির সময় রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করে ঢালাই শুরু করা হয়। স্থানীয় লোকজন বিষয়টি দেখে বাধা দেন এবং ঘটনাটি ভিডিও করে রাখেন। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।
তবে ঠিকাদারি পক্ষের দাবি, রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করা হয়নি; স্ল্যাবের সাটারিংয়ে বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছিল এবং পরে রড বসিয়ে ঢালাই করা হয়েছে। অভিযোগ ওঠার পর নিম্নমানের কাজের অংশ ভেঙে পুনরায় করার কথা জানিয়েছিলেন উপজেলা প্রকৌশলী।
ঘটনাটি নিয়ে এলজিইডি, উপজেলা প্রশাসন ও দুদকের পৃথক কার্যক্রম চলছে। তদন্ত ও কারিগরি প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
✍️ মন্তব্য লিখুন