লালমনিরহাট প্রতিনিধি
ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা এলাকার একমাত্র সংযোগ সড়কের একটি অংশ ধসে পড়েছে। এতে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে এলাকার যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। জরুরি ভিত্তিতে সড়ক মেরামতের উদ্যোগ নিলেও মেরামতসামগ্রীবাহী ট্রাক তিন বিঘা করিডোরে আটকে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর বিরুদ্ধে। ফলে মেরামতকাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি এবং স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার ভোরে ভারতের দিক থেকে নেমে আসা প্রবল ঢল প্রথমে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি প্লাবিত করে এবং পরে সিস্টায়ার বাজারসংলগ্ন পাকা সড়কের একটি বড় অংশ ভেঙে যায়। এতে অন্তত দুই হাজার পরিবারের স্বাভাবিক যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়। একই সঙ্গে সীমান্তে দায়িত্ব পালনরত বিজিবি সদস্যদের চলাচল ও টহল কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় লালমনিরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) দ্রুত মেরামতের জন্য বালুসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে একটি ট্রাক দহগ্রামের উদ্দেশে পাঠায়। তবে তিন বিঘা করিডোরে পৌঁছানোর পর বিএসএফ ট্রাকটির অগ্রযাত্রায় বাধা দেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ফলে ট্রাকটি বিজিবি চেকপোস্টের সামনে আটকে থাকে এবং মেরামতের কাজ শুরু করা যায়নি।
সড়ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন রোগী, গর্ভবতী নারী, শিক্ষার্থী এবং সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা। যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় জরুরি চিকিৎসাসেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানমুখী শত শত শিক্ষার্থীর যাতায়াতও ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি পানির তোড়ে সদ্য রোপণ করা আমন ধানের ক্ষেত তলিয়ে কৃষকদেরও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে।
ভুক্তভোগী বাসিন্দারা দ্রুত সমস্যার সমাধানে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের দাবি, তিন বিঘা করিডোর দিয়ে মেরামতসামগ্রী প্রবেশের অনুমতি দিয়ে দ্রুত সড়কটি চলাচলের উপযোগী করা হোক, যাতে সীমান্ত এলাকার মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়।
✍️ মন্তব্য লিখুন