আন্তর্জাতিক ডেস্ক
নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলন শেষ হওয়ার পর কয়েকজন বিশ্বনেতা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন দাবিকে ‘ভুয়া’ ও ‘বিভ্রান্তিকর’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (এমইএ) ফ্যাক্টচেক ইউনিট এ ধরনের পোস্টকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে সতর্ক করেছে।
গত ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয় ব্রিকসের ১৮তম সম্মেলন। সম্মেলনের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি ছড়ায়, সেখানে অংশ নেওয়া একাধিক নেতা দেশে ফেরার পর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এসব দাবির মধ্যে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং এবং দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসার নামও উঠে আসে।
বিষয়টি আলোচনায় আসে বিশেষ করে রামাফোসার শারীরিক অসুস্থতার খবর প্রকাশের পর। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্সি জানায়, ব্রিকস সম্মেলন শেষে দেশে ফেরার পর রামাফোসাকে চিকিৎসকেরা বিশ্রাম ও সুস্থ হয়ে ওঠার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে তাঁর অসুস্থতার কারণ বা এটি ব্রিকস সম্মেলনের সঙ্গে কোনোভাবে সম্পর্কিত কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
এদিকে সম্মেলনের একটি নৈশভোজে সি চিন পিংয়ের অনুপস্থিতি নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা জল্পনা ছড়ায়। এমনকি তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বা গুরুতর চিকিৎসার প্রয়োজন হয়েছে—এমন দাবিও করা হয়। তবে এসব দাবির পক্ষে চীনা কর্তৃপক্ষ বা নির্ভরযোগ্য কোনো সংবাদমাধ্যমের নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, বিশ্বনেতাদের ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণের সঙ্গে অসুস্থতার ঘটনা যুক্ত করে যেসব পোস্ট ছড়ানো হচ্ছে, সেগুলো বিভ্রান্তিকর। মন্ত্রণালয়ের ফ্যাক্টচেক ইউনিট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের এ ধরনের ‘ম্যালিশাস’ বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পোস্ট থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সম্মেলনের সময় সি চিন পিং নৈশভোজে না যাওয়ার বিষয়টিও গুজবের অন্যতম ভিত্তি হয়ে ওঠে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে Hindustan Times জানিয়েছে, দীর্ঘ সময়ের কর্মসূচির পর ক্লান্ত থাকার কারণে তিনি হোটেলে ফিরে বিশ্রাম নিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।
ফলে ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়া একাধিক বিশ্বনেতা সম্মেলনের কারণে অসুস্থ হয়েছেন—এমন দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। রামাফোসার অসুস্থতার খবর সত্য হলেও সেটিকে সম্মেলনের সঙ্গে যুক্ত করার কোনো সরকারি তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
✍️ মন্তব্য লিখুন