চট্টগ্রাম (উত্তর) প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ঘুমন্ত শাশুড়িকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তাঁর নববধূর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আকলিমা আক্তার (১৯) নামের ওই নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে হামলার কারণ নিয়ে দুই ধরনের দাবি উঠেছে। আহত নারীর পরিবারের দাবি, পারিবারিক বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে হামলা করা হয়েছে। অন্যদিকে অভিযুক্তের বাবার দাবি, তাঁর মেয়ের ওপর তন্ত্র-মন্ত্র ও ‘জিনের আছর’ থাকার কারণে এ ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ বলছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
গত মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক একটার দিকে ফটিকছড়ি উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের টুনার গাজির বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। হামলায় শাহেদা বেগম (৫৩) গুরুতর আহত হন। পরে তাঁকে ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জুন প্রবাসী মঈন উদ্দিন ফয়সালের সঙ্গে আকলিমার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে আকলিমা তাঁর শাশুড়ির সঙ্গে একই বাড়িতে বসবাস করছিলেন। ঘটনার রাতে খাবার শেষে তাঁরা একই ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত একটার দিকে ঘুমন্ত শাহেদা বেগমের ওপর আকলিমা ধারালো ছুরি নিয়ে হামলা করেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহার অনুযায়ী, হামলার সময় শাহেদা বেগমের মাথায় একাধিকবার আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে আত্মরক্ষার জন্য তিনি পুত্রবধূর হাতে কামড় দেন এবং চিৎকার শুরু করেন। তাঁর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন।
ঘটনার কারণ নিয়ে ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে ভিন্ন দাবি করা হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, আকলিমার একটি অনৈতিক সম্পর্কের বিষয় শাহেদা বেগম জেনে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করা হয়। তবে অভিযুক্তের বাবা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, তন্ত্র-মন্ত্র ও ‘জিন সাধনা’র প্রভাবে তাঁর মেয়ে এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন।
এ ঘটনায় শাহেদা বেগমের মেয়ে ফারজানা আকতার পপি বাদী হয়ে ফটিকছড়ি থানায় হত্যা চেষ্টার মামলা করেন। মামলায় আকলিমা আক্তারকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে।
ফটিকছড়ি থানার পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে পারিবারিক বিরোধের বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে। এখন পর্যন্ত পরকীয়ার অভিযোগের পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে।
তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হামলার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
✍️ মন্তব্য লিখুন