নিজস্ব প্রতিবেদক
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা-২০০৮ সংশোধন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংশোধিত বিধিমালায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক ‘নৌকা’কে স্থগিত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচনী প্রতীকের তালিকায় নতুন করে যুক্ত করা হয়েছে ‘না’ প্রতীক। কোনো সংসদীয় আসনে একক প্রার্থী থাকলে ভোটাররা ওই প্রার্থীর পাশাপাশি ‘না’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে ইসি। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ৯৪ অনুচ্ছেদে দেওয়া ক্ষমতাবলে নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালার ৯-এর উপবিধি (১) সংশোধন করা হয়েছে।
সংশোধিত বিধান অনুযায়ী, স্থগিত প্রতীক ছাড়া ইসির নির্ধারিত তালিকায় থাকা প্রতীকগুলোর মধ্য থেকে প্রাপ্যতা অনুযায়ী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া যাবে। প্রতীকের তালিকায় ‘নৌকা’র পাশে স্পষ্টভাবে ‘স্থগিত’ উল্লেখ করা হয়েছে।
ইসি মোট ১২০টি প্রতীকের তালিকা চূড়ান্ত করেছে। আগের তালিকায় থাকা ১১৯টি প্রতীকের সঙ্গে এবার ‘না’ প্রতীক যুক্ত হয়েছে। ‘না’ প্রতীকটি সাধারণ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের জন্য নয়; কোনো আসনে একমাত্র প্রার্থী থাকলে ভোটারদের জন্য এটি বিকল্প হিসেবে থাকবে।
হলফনামাতেও পরিবর্তন
নতুন সংশোধনীতে প্রার্থীদের হলফনামা দাখিলের নিয়মেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রার্থীর স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান ও নির্ভরশীল ব্যক্তিদের আয়করসংক্রান্ত তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক না রেখে ঐচ্ছিক করা হয়েছে। একই সঙ্গে ‘অভিযুক্ত’ বলতে এমন ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে, যার বিরুদ্ধে আদালত আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করেছে।
ফৌজদারি মামলায় জামিনে থাকা প্রার্থীদের ক্ষেত্রেও কাগজপত্র দাখিলের নিয়ম কিছুটা শিথিল করা হয়েছে। কারাগারে থাকা প্রার্থীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জেল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সত্যায়িত করে জমা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব পরিচালনার ক্ষেত্রেও প্রার্থীর পাশাপাশি তাঁর মনোনীত নির্বাচনী এজেন্টের ব্যাংক হিসাব ব্যবহারের বিধান যুক্ত করা হয়েছে।
ইসি জানিয়েছে, সংশোধিত বিধানগুলো জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন ও নির্বাচন-সংক্রান্ত কার্যক্রমে প্রযোজ্য হবে।
✍️ মন্তব্য লিখুন