আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের একটি স্কুলে ভয়াবহ বোমা হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জড়িত ছিল—এমন অভিযোগের পক্ষে ‘যৌক্তিক ভিত্তি’ পাওয়ার কথা জানিয়েছে জাতিসংঘের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত স্বাধীন তদন্তকারী দল। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইরানের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলাটি আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘন করে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের পর্যায়ে পড়তে পারে।
জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন ফর ইরান বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানায়, শাজারেহ তাইয়্যেবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলায় ১৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন। নিহতদের মধ্যে প্রায় ১২০ জন শিশু ছিল বলে ইরানি কর্তৃপক্ষের তথ্য উদ্ধৃত করেছে তদন্তকারী দল।
তদন্তকারীদের মতে, স্কুলটি হামলার সময় একটি স্পষ্ট বেসামরিক স্থাপনা ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ওই এলাকার লক্ষ্য নির্ধারণের তথ্য হালনাগাদ না করায় এবং ভবনটি সামরিক লক্ষ্য কি না, তা যথাযথভাবে যাচাই না করায় হামলার ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। তদন্ত মিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি কেবল অবহেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; বেসামরিক স্থাপনায় আঘাত হানার যথেষ্ট ঝুঁকি সম্পর্কে জেনেও হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে।
এর আগে মার্চে রয়টার্সও মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানিয়েছিল, প্রাথমিক তদন্তে স্কুলটিতে হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী দায়ী হওয়ার সম্ভাবনা দেখা গেছে। সে সময় তদন্ত চূড়ান্ত হয়নি।
মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাথমিক মূল্যায়ন নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, হামলাটি ভুল লক্ষ্য নির্ধারণের কারণে হয়ে থাকতে পারে। পুরোনো গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও তদন্তে প্রশ্ন ওঠে।
জাতিসংঘ-সমর্থিত তদন্তকারী দল আরও একটি হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগের ‘যৌক্তিক ভিত্তি’ পেয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলীয় লামের্দ শহরের একটি ক্রীড়া স্থাপনা ও আবাসিক এলাকায় ওই হামলায় ২২ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে তদন্ত প্রতিবেদনের এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আদালতের চূড়ান্ত রায় নয়। জাতিসংঘের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত স্বাধীন তদন্তকারীদের অনুসন্ধানের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবেদন প্রকাশ বা অভিযোগ স্বীকার করেনি।
প্রতিবেদনে একই সময়ে ইরানের অভ্যন্তরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনেরও অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীরা বলেছেন, বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতা, নির্যাতন ও নির্বিচারে আটকের মতো কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তারা গুরুতর তথ্য পেয়েছেন।
✍️ মন্তব্য লিখুন