আন্তর্জাতিক ডেস্ক
অধিকৃত জেরুজালেমে দূতাবাস খোলায় প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র নাউরুর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আরব পার্লামেন্ট। আরব দেশগুলোর আইনপ্রণেতাদের এই সংগঠন বলেছে, নাউরুর এ সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের প্রাসঙ্গিক প্রস্তাবের পরিপন্থী।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) আরব পার্লামেন্টের পক্ষ থেকে নাউরুর দূতাবাস খোলার সিদ্ধান্তের নিন্দা জানানো হয়। আরব লীগের সাধারণ সচিবালয়ও নাউরুর এই পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করেছে।
নাউরু গত সোমবার জেরুজালেমে ইসরায়েলে তাদের দূতাবাস উদ্বোধন করে। এর মধ্য দিয়ে দেশটি জেরুজালেমে দূতাবাস স্থাপনকারী অল্পসংখ্যক দেশের একটি হয়ে উঠেছে। ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নাউরুর দূতাবাসটি আগামী কয়েক মাসের মধ্যে কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনার কথা আগে জানানো হয়েছিল।
আরব পার্লামেন্টের মতে, জেরুজালেমের মর্যাদা নিয়ে আন্তর্জাতিক ঐকমত্য ও জাতিসংঘের অবস্থানকে উপেক্ষা করে কোনো দেশ সেখানে দূতাবাস স্থাপন করলে তা শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে এ ধরনের পদক্ষেপ ফিলিস্তিনি জনগণের বৈধ অধিকার ও স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবির প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করে বলেও মনে করে তারা।
নাউরু ২০১৯ সালে জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল। দেশটির সাম্প্রতিক দূতাবাস খোলার সিদ্ধান্ত সেই অবস্থানেরই ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর আগে গত জুলাইয়ে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) নাউরুর জেরুজালেমে দূতাবাস খোলার সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছিল। সংস্থাটি জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আহ্বান জানায়।
এদিকে নাউরুর দূতাবাস খোলার ঘটনায় ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও নিন্দা জানিয়েছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি আরব বিশ্বের বিভিন্ন মহলও এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
জেরুজালেমের মর্যাদা দীর্ঘদিন ধরেই ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের অন্যতম স্পর্শকাতর বিষয়। ফলে কোনো দেশের দূতাবাস সেখানে স্থানান্তর বা নতুন করে স্থাপনের সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। নাউরুর সাম্প্রতিক পদক্ষেপও এর ব্যতিক্রম হয়নি।
তথ্যসূত্র: আরব লীগ, ওআইসি, ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ফিলিস্তিনি ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
✍️ মন্তব্য লিখুন