ঢাকা, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬:
ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে অংশ নিতে যাচ্ছেন না বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আমন্ত্রণটি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে দেওয়া হয়নি—বরং বাংলাদেশ বর্তমানে বিমসটেকের (বঙ্গোপসাগরীয় বহুমাত্রিক কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা উদ্যোগ) চেয়ার হিসেবে যে দায়িত্ব পালন করছে, সেই পরিচয়ে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে ঢাকার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এ বিষয়টিই বাংলাদেশের অসন্তোষের মূল কারণ হিসেবে সামনে এসেছে।
ভারতের আয়োজনে অনুষ্ঠেয় এবারের ব্রিকস সম্মেলনে সদস্যদেশগুলোর পাশাপাশি আমন্ত্রিত কয়েকটি দেশের অংশগ্রহণের কথা রয়েছে। বাংলাদেশও বিমসটেকের চেয়ার হিসেবে আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রতিনিধিত্ব করতে পারে—এমন প্রেক্ষাপটে আমন্ত্রণের বিষয়টি সামনে আসে। তবে ঢাকার বক্তব্য, আমন্ত্রণের ধরনটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানকে দেওয়া আমন্ত্রণের সমতুল্য নয়।
আমন্ত্রণ নিয়ে ঢাকার অবস্থান
বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, আমন্ত্রণটি সরাসরি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দেওয়া হয়নি। বরং বিমসটেকের চেয়ার হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি সামনে রাখা হয়েছে। এ কারণে প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে—এমন বিবেচনায় অন্য কোনো সরকারি প্রতিনিধিকে সম্মেলনে পাঠানোরও সুযোগ দেখছে না ঢাকা।
ফলে দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকসের আউটরিচ সেশনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উচ্চপর্যায়ের কোনো প্রতিনিধির অংশ নেওয়ার সম্ভাবনাও আপাতত নেই। বিষয়টি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের সাম্প্রতিক টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
কেন বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ
বাংলাদেশ বর্তমানে বিমসটেকের চেয়ার। এই আঞ্চলিক জোটে বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান, মিয়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড সদস্য। ফলে বিমসটেকের চেয়ার হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকে ঘিরে ব্রিকসের আউটরিচ পর্বে আমন্ত্রণের বিষয়টি কূটনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।
এর আগে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ বাড়ানোর নানা উদ্যোগের কথাও প্রকাশ্যে এসেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণেও তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর এবং ব্রিকস সম্মেলনে তাঁর অংশগ্রহণ না করার বিষয়টি দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েনের সঙ্গে যুক্ত করে দেখা হয়েছে।
সম্মেলনে অনুপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী
সব মিলিয়ে আমন্ত্রণের মর্যাদা ও পরিচয় নিয়ে ঢাকার আপত্তির কারণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবার দিল্লির ব্রিকস সম্মেলনে যাচ্ছেন না। সরকারের অবস্থান অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো না হলে তাঁর পরিবর্তে কোনো প্রতিনিধিকে পাঠানোর প্রশ্নও ওঠে না।
ব্রিকসের মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হলেও আমন্ত্রণের ধরন নিয়ে এই অবস্থান ঢাকা-দিল্লির কূটনৈতিক সমীকরণে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন