আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে Benjamin Netanyahu–এর বক্তব্য। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছেন, Iran-এর ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে সহায়তা দিয়েছে China। তবে সেই অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে বেইজিং।
মঙ্গলবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র Guo Jiakun বলেন, “তথ্যভিত্তিক নয়—এমন অভিযোগের চীন বিরোধিতা করে।” তিনি জানান, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে চীনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ নিয়ে বেইজিং আগেও নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে।
গুয়ো জিয়াকুন আরও বলেন, একটি “দায়িত্বশীল বৃহৎ রাষ্ট্র” হিসেবে চীন সবসময় আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা মেনে চলে। একই সঙ্গে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিরসনে শান্তি আলোচনা ও কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি United States ও Israel যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায়। এর জবাবে তেহরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও বিভিন্ন স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালায়। সংঘাত দ্রুত আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংকটে রূপ নেয়।
এরপর ওয়াশিংটন অভিযোগ তোলে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে চীন সহযোগিতা করছে। এ অভিযোগের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র কয়েকটি চীনা তেল শোধনাগার ও স্যাটেলাইট ইমেজিং প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। যদিও বেইজিং বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
এদিকে যুদ্ধের মানবিক পরিস্থিতিও ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্যমতে, সংঘাতে ইরানে ৩ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। অন্যদিকে হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১৩ জন সেনাসদস্য নিহত এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ায় বিভিন্ন দেশ। Pakistan-এর মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। একই সময়ে Turkey হরমুজ প্রণালিকে “অস্ত্র” হিসেবে ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা রক্ষার ওপর গুরুত্ব দেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, চীনকে ঘিরে নতুন এই অভিযোগ মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বিশেষ করে ওয়াশিংটন-বেইজিং প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রেক্ষাপটে ইরান ইস্যু এখন বৈশ্বিক কূটনীতির অন্যতম সংবেদনশীল বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন