চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে শুরু হয়েছে বহুল আলোচিত বৈঠক। বৃহস্পতিবার সকালে চীনের প্রেসিডেন্ট Xi Jinping এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump গ্রেট হল অব দ্য পিপলে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসেন। বিশ্বের বৃহত্তম দুই অর্থনীতির নেতাদের এই মুখোমুখি বৈঠককে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক কৌতূহল ও গুরুত্ব তৈরি হয়েছে।
আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈঠকের আগে বেইজিংয়ে জাঁকজমকপূর্ণ স্বাগত অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে বাজানো হয় যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সংগীত ‘দ্য স্টার-স্প্যাংলড ব্যানার’। পরে ট্রাম্পকে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানিয়ে ২১ বার তোপধ্বনি দেওয়া হয়। এ সময় তাকে স্যালুট দিতে দেখা যায়। পাশে লাল ও সোনালি সাজসজ্জার মঞ্চে দাঁড়িয়ে ছিলেন শি জিনপিং। এরপর বাজানো হয় চীনের জাতীয় সংগীত।
অনুষ্ঠানে অংশ নেয় চীনের কয়েক ডজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তারা দুই দেশের পতাকা ও ফুল হাতে অতিথিদের স্বাগত জানায়। পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও কূটনৈতিক আনুষ্ঠানিকতার ছাপ।
এই সফরে ট্রাম্পের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যবসায়ীরাও বেইজিংয়ে গেছেন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, প্রযুক্তি ও ব্যবসা খাতের প্রভাবশালী কয়েকজন নির্বাহী তার সফরসঙ্গী হয়েছেন। এতে বোঝা যাচ্ছে, রাজনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সম্পর্কও এই সফরের বড় কেন্দ্রবিন্দু।
বিশ্লেষকদের মতে, বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য সম্পর্ক, তাইওয়ান ইস্যু, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রতিযোগিতা, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা, ইরান পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে দুই পরাশক্তির এই বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বেইজিং যাওয়ার আগে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার দীর্ঘ আলোচনা হবে এবং সেখানে ইরান ইস্যু গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে সফরের মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে তিনি বাণিজ্য আলোচনার কথাই উল্লেখ করেন।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের ধারণা, বৈঠকের ফলাফল শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্কেই নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও ভূরাজনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
✍️ মন্তব্য লিখুন