দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উপাচার্য (ভিসি) নিয়োগে দীর্ঘদিন ধরে University of Dhaka–কেন্দ্রিক যে আধিপত্য ছিল, সাম্প্রতিক নিয়োগে তা আরও কমেছে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। বিশেষ করে সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এখন নিজস্ব ক্যাম্পাস কিংবা অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ভিসি হিসেবে নিয়োগের প্রবণতা বাড়ছে।
University Grants Commission of Bangladesh–এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৫৮টি। এগুলোর মধ্যে স্বায়ত্তশাসিত, সাধারণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, প্রকৌশল, কৃষি, মেডিকেল ও বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সাম্প্রতিক নিয়োগে ঢাবির উপস্থিতি কমেছে
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে Bangladesh Nationalist Party ক্ষমতায় আসার পর কয়েক ধাপে ২০টির বেশি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভিসি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ ১৪ মে শিক্ষা মন্ত্রণালয় একযোগে ১১টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি নিয়োগ দেয়। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নতুন নিয়োগ পাওয়া ১১ জনের মধ্যে মাত্র দুজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক।
এর আগে একযোগে নিয়োগ পাওয়া ৯ ভিসির মধ্যে তিনজন ছিলেন ঢাবির শিক্ষক। সব মিলিয়ে সাম্প্রতিক নিয়োগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একক প্রভাব আগের তুলনায় স্পষ্টভাবে কমেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
স্ব স্ব ক্যাম্পাসের শিক্ষকদের গুরুত্ব বাড়ছে
একসময় Jagannath University, Comilla University, Islamic University, Bangladesh, University of Barishal, Pabna University of Science and Technology–সহ বিভিন্ন সাধারণ ও বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢাবির জ্যেষ্ঠ অধ্যাপকদের ভিসি হিসেবে নিয়োগ দেওয়াই ছিল প্রায় নিয়মিত চিত্র।
কিন্তু বর্তমানে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজস্ব ক্যাম্পাসের শিক্ষক অথবা অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রশাসনিক নেতৃত্বে আনা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ ও অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব তৈরির একটি ইঙ্গিত হতে পারে।
স্বায়ত্তশাসিত ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে আলাদা ধারা
দেশের চারটি স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণত নিজস্ব ক্যাম্পাস থেকেই ভিসি নিয়োগ দেওয়া হয়। সাম্প্রতিক সময়ে University of Chittagong, University of Rajshahi এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সেই ধারাই বজায় রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে Bangladesh University of Engineering and Technology এবং Khulna University of Engineering & Technology–এ নতুন ভিসি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে নিজ নিজ ক্যাম্পাসের শিক্ষকদের মধ্য থেকে।
কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পরিবর্তন নেই
দেশের সাতটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো নতুন ভিসি নিয়োগ হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এসব প্রতিষ্ঠানের বর্তমান প্রশাসনের বড় অংশই বিএনপিপন্থী হিসেবে পরিচিত হওয়ায় সেখানে আপাতত বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম।
নিয়োগে রাজনৈতিক ও গ্রুপভিত্তিক প্রভাবের অভিযোগ
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক দাবি করেছেন, ভিসি নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। তার মতে, অনেক ক্ষেত্রে মন্ত্রী, উপদেষ্টা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক বিভিন্ন পক্ষ নিজেদের পছন্দের প্রার্থীদের এগিয়ে দিতে কাজ করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক পরিবর্তন একদিকে যেমন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের প্রভাব কমার ইঙ্গিত দিচ্ছে, অন্যদিকে তেমনি দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থানীয় নেতৃত্বের বিকাশের নতুন বাস্তবতাও সামনে আনছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন