মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, China চাইলে Iran–এর ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তবে সেই প্রভাব ব্যবহার করতে গেলে United States–কে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে বড় ধরনের মূল্য দিতে হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান Middle East Institute–এর জ্যেষ্ঠ গবেষক Alex Vatanka আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরানের অপরিশোধিত তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা বর্তমানে চীন। তার ভাষ্যমতে, ইরানের মোট অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই চীনের বাজারে যায়। ফলে তেহরানের অর্থনীতির ওপর বেইজিংয়ের গভীর প্রভাব তৈরি হয়েছে।
তবে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষায় চীন সেই প্রভাব ব্যবহার করবে—এমন সম্ভাবনা খুব কম। কারণ, বেইজিং বরাবরই ইরানকে কৌশলগত দরকষাকষির একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে।
ভাতাঙ্কা বলেন, চীন প্রায়ই ইরান ইস্যুকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় একটি “কার্ড” হিসেবে ব্যবহার করে থাকে। বিশেষ করে বাণিজ্য, প্রযুক্তি নিষেধাজ্ঞা বা ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার মতো ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ছাড় আদায়ে এই সম্পর্ক কাজে লাগায় বেইজিং।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে Donald Trump প্রশাসনের ইরানবিরোধী অবস্থান আরও কঠোর হওয়ায় চীন-ইরান সম্পর্ক নতুন গুরুত্ব পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে গত সপ্তাহে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বেইজিং সফরও বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
ভাতাঙ্কার ধারণা, ওই সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল চীনের কাছ থেকে রাজনৈতিক আশ্বাস পাওয়া—যাতে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে বেইজিং তেহরানকে একা ফেলে না দেয়।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূরাজনীতিতে চীন এখন শুধু অর্থনৈতিক অংশীদার নয়, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত শক্তি। আর সেই কারণেই ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও আঞ্চলিক শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতা আগামী দিনগুলোতে আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
✍️ মন্তব্য লিখুন