মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে কার্যকর যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৪৫ দিন বাড়ানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর শুক্রবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র Tommy Pigott জানান, গত ১৬ এপ্রিল কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির সময়সীমা নতুন করে বাড়ানো হয়েছে, যাতে দুই পক্ষের মধ্যে চলমান আলোচনায় আরও অগ্রগতি সম্ভব হয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্ত আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
ওয়াশিংটনে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার অনুষ্ঠিত ইসরায়েল-লেবানন বৈঠককে যুক্তরাষ্ট্র “খুবই ফলপ্রসূ” বলে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, আগামী ২ ও ৩ জুন আবারও দুই পক্ষ আলোচনায় বসবে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং সামরিক উত্তেজনা কমানোর বিষয়গুলো আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
বর্তমান সংকটের পটভূমি শুরু হয় গত ২ মার্চ, যখন Hezbollah ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এর কয়েকদিন আগেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নেতৃত্বে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু হয়েছিল। ওই ঘটনার পরপরই ইসরায়েল লেবাননে বিমান হামলা জোরদার করে এবং পরে দক্ষিণ লেবাননে স্থল অভিযানও বিস্তৃত করে।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠার প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump গত ১৬ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। এরপর বড় ধরনের সংঘর্ষ কিছুটা কমলেও দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় এখনও উত্তেজনা বিরাজ করছে। সীমান্ত অঞ্চলে উভয় পক্ষের সেনা মোতায়েন এবং বিচ্ছিন্ন হামলার আশঙ্কা পুরোপুরি কাটেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি সাময়িক স্বস্তি এনে দিলেও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার জন্য রাজনৈতিক সমাধান ও আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
✍️ মন্তব্য লিখুন