
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী Imran Khan-কে ক্ষমতা থেকে সরানোর পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ছিল কি না— সেই বিতর্ক আবারও নতুন করে সামনে এসেছে। মার্কিন অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম [Drop Site News](https://dropsitenews.com?utm_source=chatgpt.com)–এ প্রকাশিত এক গোপন কূটনৈতিক নথিকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০২২ সালের মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক বৈঠকে ইসলামাবাদকে পরোক্ষভাবে জানানো হয়েছিল— Imran Khan ক্ষমতায় থাকলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও খারাপ হবে। ওই তথাকথিত “সাইফার” নথিতে তৎকালীন পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূত Asad Majeed Khan এবং মার্কিন কূটনীতিক Donald Lu–এর কথোপকথনের বিবরণ উঠে এসেছে।
কেন ক্ষুব্ধ ছিল যুক্তরাষ্ট্র?
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়ার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান না নেওয়া এবং একই সময়ে মস্কো সফর করায় ওয়াশিংটন ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এছাড়া আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর পাকিস্তানের ঘাঁটি ব্যবহারের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করাও সম্পর্কের অবনতির অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হয়।
Imran Khan দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছেন, স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ এবং চীন-রাশিয়ার সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার কারণেই তাকে ক্ষমতা থেকে সরানো হয়েছে। তার দাবি, এতে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ কিছু রাজনৈতিক শক্তিও যুক্ত ছিল।
‘সবকিছু ক্ষমা করা হবে’
ফাঁস হওয়া নথির বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২২ সালের ৭ মার্চের বৈঠকে ডোনাল্ড লু নাকি ইঙ্গিত দেন— অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে ইমরান খানকে সরানো গেলে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষোভ প্রশমিত হবে এবং সম্পর্ক স্বাভাবিক হতে পারে।
যদিও এ ধরনের অভিযোগ শুরু থেকেই অস্বীকার করে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র। সে সময় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র Ned Price বলেছিলেন, ইমরান খানের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।
এরপর যা ঘটে
২০২২ সালের ৯ এপ্রিল অনাস্থা ভোটে ক্ষমতা হারান Imran Khan। পরে দুর্নীতি, আদালত অবমাননা ও রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য ফাঁসসহ একাধিক মামলায় তাকে ও তার স্ত্রী Bushra Bibi-কে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। এরপর থেকেই তারা কারাবন্দি।
একই সঙ্গে তার দল Pakistan Tehreek-e-Insaf-এর ওপরও কঠোর চাপ বাড়ানো হয়। ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে দলটির নির্বাচনী প্রতীক বাতিল করা হয় এবং বিভিন্ন পর্যায়ে দলীয় কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়ে।
সেনাবাহিনীর ভূমিকাও আলোচনায়
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তানের সেনাবাহিনী মনে করেছিল ইমরান খানের নীতি দেশকে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করে ফেলছে। এরপর সামরিক মহল স্বাধীনভাবে ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ায়।
ইমরান সরকারের পতনের পর পাকিস্তানের নতুন প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকারের দিকে ঝুঁকে পড়ে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য গোলাবারুদ সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সহায়তা নিয়েও নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে।
তবে পুরো বিষয়টি এখনো রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে। ফাঁস হওয়া নথির সত্যতা ও প্রেক্ষাপট নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত বা নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক যাচাই হয়নি। ফলে এটি পাকিস্তানের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করলেও, অভিযোগগুলোর অনেকটাই এখনো দাবি ও পাল্টা দাবির পর্যায়ে রয়েছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন