প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে এবার যোগদানের আগে নতুন করে প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়ন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) এ জন্য একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়ন মডিউল তৈরি করেছে, যা বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রার্থীদের সরাসরি নিয়োগ না দিয়ে প্রথমে স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণে অংশ নিতে হবে। সাধারণত পিটিআইয়ের প্রশিক্ষণ ১০ মাসব্যাপী হলেও নতুন সহকারী শিক্ষকদের জন্য এটি দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হবে। প্রশিক্ষণ শেষে মূল্যায়নে উত্তীর্ণদেরই চূড়ান্তভাবে যোগদানের সুযোগ দেওয়া হবে।
নেপের একটি সূত্র জানায়, মূল্যায়ন কার্যক্রম দুই ধাপে সম্পন্ন হবে। প্রথম ধাপে প্রশিক্ষণ চলাকালে পিটিআই কর্তৃপক্ষ প্রশিক্ষণার্থীদের কার্যক্রম ও দক্ষতা পর্যবেক্ষণ করবে। দ্বিতীয় ধাপে প্রশিক্ষণ শেষে নেপের প্রস্তুত করা প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে লিখিত বা ব্যবহারিক মূল্যায়ন নেওয়া হবে। দুই ধাপের ফলাফল একত্র করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। পরে মন্ত্রণালয় নিয়োগ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে নেপের এক কর্মকর্তা বলেন,
> “শুধু নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া নয়, একজন শিক্ষক হিসেবে শ্রেণিকক্ষে কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালনের সক্ষমতাও যাচাই করা হবে। সে কারণেই প্রশিক্ষণ-পরবর্তী মূল্যায়নকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।”
এ বিষয়ে নেপের মহাপরিচালক ফরিদ আহ্মদ বলেন, প্রশিক্ষণ, মূল্যায়ন ও পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ মডিউল প্রস্তুত করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সভার পর সেটি চূড়ান্ত হবে। তবে মডিউল অনুমোদনের আগে বিস্তারিত জানানো সম্ভব নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন,
> “নেপকে দ্রুত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব সহকারী শিক্ষকদের যোগদানের ব্যবস্থা করা হবে।”
গত ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১ জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থী মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন। গত ৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হয়।
তবে চূড়ান্ত ফল প্রকাশের কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও যোগদান প্রক্রিয়া শুরু না হওয়ায় সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্যে হতাশা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। গত এপ্রিলের শেষ দিকে রাজধানী ঢাকায় আন্দোলনেও নামেন অনেক প্রার্থী। পরে সরকার জানায়, প্রশিক্ষণ শেষে ধাপে ধাপে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।
শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, নিয়োগের আগে প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়ন ব্যবস্থা শিক্ষার মান উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে দীর্ঘসূত্রতা যেন নতুন শিক্ষকদের ভোগান্তির কারণ না হয়, সে বিষয়েও সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে।
✍️ মন্তব্য লিখুন