প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬
ওয়াশিংটন থেকে নতুন রাজনৈতিক বার্তা মিলল। যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে এমন একটি বিল পাস হয়েছে, যার লক্ষ্য প্রেসিডেন্ট Donald Trump–কে ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক পদক্ষেপ থেকে বিরত রাখা। এই ভোটে কয়েকজন রিপাবলিকান সিনেটরও ট্রাম্পের অবস্থানের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোয় বিষয়টি মার্কিন রাজনীতিতে বড় তাৎপর্য তৈরি করেছে।
মঙ্গলবার সিনেটে বিলটি ৫০-৪৭ ভোটে পাস হয়। ডেমোক্র্যাটদের আনা এই প্রস্তাব মূলত ১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজুলেশন’-এর ভিত্তিতে তৈরি। এতে বলা হয়েছে, কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট কোনো যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করতে পারবেন না এবং প্রয়োজনে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করতে হবে।
রিপাবলিকানদের ভাঙন স্পষ্ট
সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ছিল রিপাবলিকান সিনেটর Bill Cassidy–র অবস্থান পরিবর্তন। দীর্ঘদিন ট্রাম্পপন্থি অবস্থানে থাকার পর এবার তিনি বিলটির পক্ষে ভোট দেন। তার দাবি, ইরানবিরোধী সামরিক অভিযান নিয়ে হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগন কংগ্রেসকে পর্যাপ্ত তথ্য দেয়নি।
তার সঙ্গে রিপাবলিকান সিনেটর Rand Paul, Susan Collins এবং Lisa Murkowski–ও বিলের পক্ষে ভোট দেন।
অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট শিবিরে ব্যতিক্রম ছিলেন John Fetterman। তিনিই একমাত্র ডেমোক্র্যাট, যিনি বিলটির বিরোধিতা করেন।
ডেমোক্র্যাটদের কড়া বার্তা
সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতা Chuck Schumer বলেন, রিপাবলিকানদের মধ্যেই এখন মতভেদ তৈরি হয়েছে এবং প্রেসিডেন্টের যুদ্ধনীতি নিয়ে প্রশ্ন বাড়ছে।
তার ভাষায়, “প্রশাসনের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা এখন স্পষ্ট।”
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই বিল?
গত ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর নির্দেশ দেওয়ার পর থেকেই মার্কিন কংগ্রেসে বিতর্ক তীব্র হয়। সমালোচকদের মতে—
যুদ্ধ দীর্ঘ হলে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা বাড়বে
জ্বালানির দাম আরও বৃদ্ধি পেতে পারে
যুক্তরাষ্ট্র নতুন দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে
প্রশাসনের প্রকৃত কৌশল এখনো পরিষ্কার নয়
এ কারণেই কংগ্রেসের অনেক সদস্য প্রেসিডেন্টের যুদ্ধক্ষমতার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের দাবি তুলছেন।
প্রতিনিধি পরিষদে নতুন পরীক্ষা
এখন বিলটি প্রতিনিধি পরিষদে উঠতে পারে। সেখানে পাস হলে প্রেসিডেন্টের টেবিলে যাবে। তবে ট্রাম্প চাইলে ভেটো দিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে কংগ্রেসকে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে ভেটো অকার্যকর করতে হবে, যা রাজনৈতিকভাবে কঠিন।
হোয়াইট হাউসের অবস্থান
হোয়াইট হাউস বলছে, বর্তমানে ইরানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ চলছে না; বরং যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। তাই ওয়ার পাওয়ারস রেজুলেশনের বিধান এখানে পুরোপুরি প্রযোজ্য নয় বলে প্রশাসনের দাবি।
তবে বিরোধীরা বলছেন, বাস্তবে সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে এবং পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তন হতে পারে।
রাজনৈতিক গুরুত্ব
বিশ্লেষকদের মতে, এই ভোট শুধু ইরান ইস্যু নয়—এটি ট্রাম্পের নেতৃত্ব, রিপাবলিকান পার্টির অভ্যন্তরীণ বিভাজন এবং ২০২৬ সালের মার্কিন রাজনৈতিক পরিস্থিতিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। বিশেষ করে রিপাবলিকানদের একাংশ যখন প্রকাশ্যে প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন, তখন বিষয়টি ভবিষ্যৎ নির্বাচনী রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।
✍️ মন্তব্য লিখুন