বিবি রিপোর্ট
প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বহুল আলোচিত নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সচিব কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামোর বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। যদিও বৈঠক শেষে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি, সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে—নিম্ন ও মধ্যম স্তরের চাকরিজীবীদের জন্য এবার তুলনামূলক বেশি সুবিধা রাখা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মূল্যস্ফীতির সবচেয়ে বড় চাপ বহন করছেন নিম্ন আয়ের সরকারি কর্মচারীরা। এ কারণেই নতুন পে-স্কেলে তাদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন গ্রেডের মধ্যে দীর্ঘদিনের বৈষম্য কমিয়ে আনার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
জানা গেছে, নবম পে-স্কেলের পূর্ণাঙ্গ সুপারিশ একসঙ্গে বাস্তবায়ন করতে গেলে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ৪৩ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হতো। তবে বর্তমানে দেওয়া ১০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করায় অতিরিক্ত ব্যয়ের পরিমাণ কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকায়। এই ব্যয় বিবেচনায় রেখে আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
সরকারি সূত্র বলছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়ে নীতিগত নির্দেশনা দিয়েছেন। গত দুই দিনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত বাজেট-সংক্রান্ত বৈঠকেও নতুন বেতন কাঠামোর বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
নতুন পে-স্কেলের আওতায় শুধু প্রশাসন ক্যাডার নয়, শিক্ষক, পুলিশ, স্বাস্থ্যকর্মী, মাঠ প্রশাসন, বিচার বিভাগীয় কর্মচারীসহ প্রায় সব সরকারি খাত অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পাশাপাশি স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ক্ষেত্রেও আলাদা নির্দেশনা থাকতে পারে বলে জানা গেছে।
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সম্প্রতি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, আগামী অর্থবছরের শুরু অর্থাৎ ১ জুলাই থেকেই নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার। তবে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও সীমিত রাজস্ব আদায়ের কারণে সব সুপারিশ একসঙ্গে বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে না। এজন্য ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নতুন পে-স্কেলে সরকারি চাকরির বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। এতে সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন বর্তমান ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে। অন্যদিকে সর্বোচ্চ গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।
পেনশনভোগীদের জন্যও বড় ধরনের সুখবর আসতে পারে। সুপারিশ অনুযায়ী, মাসে ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের পেনশন প্রায় দ্বিগুণ পর্যন্ত বাড়তে পারে। ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রায় ৭৫ শতাংশ এবং ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য প্রায় ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে।
পুনর্গঠিত সচিব কমিটির সুপারিশ চূড়ান্ত হওয়ার পর তা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হবে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর অর্থ মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করবে। এরপর থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
✍️ মন্তব্য লিখুন