নিজস্ব প্রতিবেদক
‘যাদের ডাকে আমার সন্তান ঘর থেকে বের হয়েছিল, যাদের আন্দোলনে সে প্রাণ দিল, তারা আজ আর আমার খোঁজ নেয় না। কেউ জানতে চায় না আমি কেমন আছি, কীভাবে সংসার চলছে।’
কথাগুলো বলছিলেন গত বছরের গণ-আন্দোলনে নিহত এক তরুণের মা। সন্তান হারানোর বেদনা, সংসারের অনিশ্চয়তা এবং প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ার অভিযোগে তিনি ক্ষোভ ও হতাশার কথা তুলে ধরেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে এমন অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন আন্দোলনে প্রাণ হারানো কয়েকটি পরিবারের সদস্যরা।
স্বজনদের অভিযোগ, আন্দোলনের সময় বিভিন্ন সংগঠন ও নেতাকর্মীরা পাশে থাকার আশ্বাস দিলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই যোগাযোগ অনেকটাই কমে গেছে। প্রথমদিকে সহানুভূতি ও সহযোগিতা পেলেও পরে অধিকাংশ পরিবার নিজেদের একাকী অনুভব করছে। অনেকেই সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসনের অপেক্ষায় রয়েছেন।
সন্তানহারা ওই মা বলেন, তাঁর ছেলে আদর্শ ও স্বপ্ন নিয়ে রাজপথে নেমেছিল। কিন্তু মৃত্যুর পর পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার প্রতিশ্রুতি বাস্তবে খুব কমই পূরণ হয়েছে। সংসারের ব্যয়, ছোট ভাইবোনদের পড়াশোনা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রতিনিয়ত দুশ্চিন্তায় থাকতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এদিকে, সংশ্লিষ্ট কয়েকটি রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন দাবি করেছে, শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়াতে তারা বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে এবং সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের একটি অংশ বলছে, সহায়তার পরিমাণ প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল এবং তা নিয়মিত নয়।
সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করেন, যেকোনো গণ-আন্দোলন বা জাতীয় সংকটে প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের পরিবারের দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন ও মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের যৌথ দায়িত্ব। তা না হলে স্বজন হারানোর বেদনার সঙ্গে অর্থনৈতিক ও সামাজিক অনিশ্চয়তাও তাদের জীবনে স্থায়ী ক্ষত তৈরি করতে পারে।
✍️ মন্তব্য লিখুন