আফ্রিকান জায়ান্ট স্নেইলের উপদ্রবে আতঙ্কিত বাসিন্দারা, ক্ষতির মুখে সবজি চাষ
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুর শহরের বিভিন্ন এলাকায় এক ধরনের বিশালাকৃতির স্থল শামুকের উপদ্রবে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দিনের বেলায় আড়ালে থাকলেও সন্ধ্যা নামার পর ঝাঁকে ঝাঁকে বেরিয়ে এসে বাড়ির আঙিনা, বাগান ও গাছপালা দখল করে নিচ্ছে এসব শামুক। স্থানীয়দের অভিযোগ, কচি পাতা ও লতাপাতা খেয়ে সবজি ও ফলগাছের ব্যাপক ক্ষতি করছে তারা।
জানা গেছে, লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রামনসা বাড়ি, দুর্গাবাড়ি, কালীবাড়ি ও সীতা ডাক্তার বাড়িসহ অন্তত ১০টি পরিবারের আঙিনায় এই শামুকের বিস্তার ঘটেছে। বাসিন্দাদের ধারণা, ২০২৪ সালের বন্যার পর প্রথম এদের দেখা মিললেও গত কয়েক মাসে সংখ্যায় অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সূর্যাস্তের পর হাজার হাজার শামুক গাছের কাণ্ড, দেয়াল ও উঠানে ছড়িয়ে পড়ে। শসা, লাউ, শিমসহ বিভিন্ন সবজির কচি পাতা ও ঔষধি গাছের অংশ খেয়ে ফেলায় ক্ষতির মুখে পড়ছেন ক্ষুদ্র চাষিরা। অনেক পরিবার পলিথিন ব্যাগে ভরে দূরে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করলেও সমস্যা পুরোপুরি সমাধান হচ্ছে না।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, শামুকগুলোর শরীর থেকে নির্গত আঠালো পদার্থ ত্বকে লাগলে চুলকানি ও জ্বালাপোড়া হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। এ কারণে সন্ধ্যার পর শিশুদের বাইরে যেতে দিতে ভয় পাচ্ছেন অনেক অভিভাবক। যদিও এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের আনুষ্ঠানিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও মতামত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসান ইমাম জানিয়েছেন, এগুলো সম্ভবত ‘আফ্রিকান জায়ান্ট স্নেইল’ নামে পরিচিত এক ধরনের আক্রমণাত্মক স্থল শামুক, যা কৃষির জন্য ক্ষতিকর। তিনি বলেন, এরা কচি পাতা ও ডালপালা খেয়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করতে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন অনুযায়ী অনুমোদিত কীটনাশক ব্যবহারের পাশাপাশি ডিমের খোসার গুঁড়া, কাঠের গুঁড়া ছিটিয়ে দেওয়া এবং শামুক সংগ্রহ করে নিরাপদ স্থানে অপসারণের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
পরিবেশবিদদের মতে, বিদেশি আক্রমণাত্মক প্রজাতির প্রাণীর বিস্তার স্থানীয় জীববৈচিত্র্য ও কৃষি উৎপাদনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি হুমকি তৈরি করতে পারে। তাই দ্রুত জরিপ চালিয়ে প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও কৃষকরা।
✍️ মন্তব্য লিখুন