সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে রাবেয়া খাতুনের জীবনে যেন একের পর এক দুর্যোগ নেমে এসেছে। কয়েক বছর আগে বজ্রপাতে স্বামীকে হারিয়েছিলেন তিনি। স্বামীহারা সংসারে শ্রমিকের কাজ করে কষ্টে গড়ে তুলেছিলেন একটি ছোট্ট বসতঘর। কিন্তু এবার পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতে সেই ঘরটিও বিধ্বস্ত হয়েছে।
তাহিরপুর উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের চারাগাঁও গ্রামের বাসিন্দা রাবেয়া এখন ছোট ছেলেকে নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন মেয়ের বাড়িতে। নিজের ঘর হারিয়ে নতুন করে ঘর বানানোর সামর্থ্য নেই তাঁর।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাম্প্রতিক পাহাড়ি ঢলের পানির তীব্র স্রোতে সীমান্তবর্তী এলাকার অনেক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও ঘর ভেঙে পড়েছে, কোথাও ভেসে গেছে ঘরের আসবাব ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী। ঘরবাড়ি হারিয়ে অনেক পরিবার স্বজনের বাড়ি কিংবা অস্থায়ী আশ্রয়ে দিন কাটাচ্ছে।
রাবেয়া খাতুন জানান, স্বামী মারা যাওয়ার পর পাথর ও কয়লার ডিপোতে শ্রমিকের কাজ করে সংসার চালানোর পাশাপাশি অনেক কষ্টে একটি ঘর তৈরি করেছিলেন। কিন্তু পাহাড়ি ঢলের পানিতে তাঁর সেই শেষ আশ্রয়টুকুও শেষ হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, “অনেক কষ্ট করে ঘর বানিয়েছিলাম। ঢলের পানিতে সব শেষ হয়ে গেছে। এখন অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি। নিজের একটা ঘরই এখন সবচেয়ে বড় চাওয়া।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, পাহাড়ি ঢলে শুধু বসতঘর নয়, বিভিন্ন গ্রামীণ সড়কও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্যোগের কয়েক সপ্তাহ পরও ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার প্রয়োজনীয় সহায়তা পায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
সুনামগঞ্জের জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মেহদী হাসান হৃদয় বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী দ্রুত তাঁদের মধ্যে সহায়তা বিতরণ করা হবে।
রাবেয়ার মতো ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর এখন প্রধান প্রয়োজন নিরাপদ আশ্রয় ও ঘর পুনর্নির্মাণের সহায়তা। স্বামীকে হারানোর পর নিজের শ্রমে যে ভিটায় নতুন করে জীবন গড়ার চেষ্টা করেছিলেন, পাহাড়ি ঢল সেটিও কেড়ে নিয়েছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন