নিজস্ব প্রতিবেদক
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিয়োগ, পদোন্নতি, প্রশিক্ষণ, বদলি ও বেতন-ভাতার কাঠামোয় পরিবর্তন আনতে নতুন শিক্ষক নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নীতিমালার খসড়া তৈরির কাজ চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
প্রস্তাবিত কাঠামোয় শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা বাড়ানো, পদোন্নতির সুস্পষ্ট সুযোগ তৈরি এবং চাকরিজীবনের বিভিন্ন ধাপে দায়িত্ব ও বেতন-গ্রেডের সামঞ্জস্য আনার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত সহকারী শিক্ষকদের বেতন-গ্রেড উন্নীত করার দাবিও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বিবেচনায় রয়েছে।
‘সহকারী শিক্ষক’ পদে পরিবর্তনের প্রস্তাব
এর আগে প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারে গঠিত পরামর্শক কমিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রচলিত ‘সহকারী শিক্ষক’ পদ বিলুপ্ত করে ‘শিক্ষক’ ও ‘সিনিয়র শিক্ষক’ পদ চালুর সুপারিশ করেছিল। প্রবেশন পর্যায়ে ‘শিক্ষক’ পদে দ্বাদশ গ্রেডে নিয়োগ, চাকরি স্থায়ীকরণের পর নির্দিষ্ট সময় শেষে সিনিয়র শিক্ষক পদে পদোন্নতির প্রস্তাবও ছিল।
একই সুপারিশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের দশম গ্রেডে উন্নীত করার কথা বলা হয়েছিল। বর্তমানে সহকারী শিক্ষকরা ত্রয়োদশ গ্রেডে এবং প্রধান শিক্ষকরা একাদশ গ্রেডে বেতন পান—যদিও প্রধান শিক্ষকদের দশম গ্রেডে উন্নীত করার প্রস্তাবে অর্থ বিভাগের সম্মতির বিষয়টি ইতিমধ্যে সামনে এসেছে।
বেতন কাঠামোয় গুরুত্ব
নতুন শিক্ষক নীতিমালায় বেতন-ভাতা ও আর্থিক সুবিধার বিষয়টি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রাথমিক শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবি, তাঁদের দায়িত্ব ও পেশাগত মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন কাঠামো পুনর্নির্ধারণ করা। বিশেষ করে সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডে উন্নীত করার দাবি নিয়ে আলোচনা রয়েছে।
তবে নতুন নীতিমালায় ঠিক কোন পদে কোন গ্রেড নির্ধারণ করা হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ফলে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত সম্ভাব্য বেতন বা গ্রেডকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
শিক্ষক সংকটও বড় চ্যালেঞ্জ
বেতন ও পদ কাঠামোর পাশাপাশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট দূর করার বিষয়টিও সরকারের আলোচনায় রয়েছে। দেশের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক না থাকায় পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রাম, চর, হাওর ও দুর্গম এলাকার বিদ্যালয়গুলোতে এ সংকট বেশি।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, শুধু বেতন-গ্রেড পরিবর্তন নয়, নিয়োগ ও পদোন্নতির জটিলতা দূর করে শিক্ষকদের জন্য একটি সুস্পষ্ট ক্যারিয়ার কাঠামো তৈরি করা জরুরি। নতুন নীতিমালায় এসব বিষয় একসঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
নীতিমালা চূড়ান্ত হওয়ার পর শিক্ষক নিয়োগ, পদোন্নতি ও বেতন-ভাতার ক্ষেত্রে নতুন কাঠামো বাস্তবায়নের পথ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
✍️ মন্তব্য লিখুন