নিজস্ব প্রতিবেদক
হৃদরোগ চিকিৎসায় ব্যবহৃত হার্টের রিং বা করোনারি স্টেন্টের দাম সর্বোচ্চ ৪৭ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত কমিয়েছে সরকার। নতুন এ সিদ্ধান্তে দেশে হৃদরোগীদের চিকিৎসা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে আশা করছেন চিকিৎসক ও রোগীরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ হাজারো পরিবারের আর্থিক চাপ কমাতে সহায়ক হবে।
মঙ্গলবার ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর (ডিজিডিএ) ২৯টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের স্টেন্টের নতুন মূল্যতালিকা প্রকাশ করে। নতুন তালিকা অনুযায়ী, অধিকাংশ স্টেন্টের দাম ৩ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৪৭ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে। ট্যাক্স, ভ্যাট, আমদানি ব্যয়, কমিশন এবং যুক্তিসংগত মুনাফা বিবেচনায় এনে এ মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
ডিজিডিএ জানিয়েছে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে এবং তা অবিলম্বে কার্যকর হবে। বাজারে বর্তমানে সর্বনিম্ন ১৪ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৬৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দামের স্টেন্ট পাওয়া যাবে।
সবচেয়ে বেশি দাম কমানো হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি একটি বিশেষ ধরনের কাভার্ড স্টেন্টের ক্ষেত্রে। আগে যার মূল্য ছিল ১ লাখ ৯ হাজার ৮০০ টাকা, এখন সেটি ৬২ হাজার টাকায় পাওয়া যাবে। এছাড়া জাপান, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, নেদারল্যান্ডস ও ভারতের তৈরি বিভিন্ন স্টেন্টের দামও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।
নতুন মূল্য কার্যকরের পাশাপাশি দেশের সব কার্ডিয়াক হাসপাতালের জন্য চার দফা নির্দেশনা জারি করেছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, হাসপাতালগুলোকে দৃশ্যমান স্থানে হালনাগাদ মূল্যতালিকা টাঙাতে হবে, অনুমোদিত মূল্যের বেশি দামে বিক্রি করা যাবে না, রোগীকে পৃথক ক্যাশমেমো দিতে হবে এবং ব্যবহৃত স্টেন্টের খালি প্যাকেট রোগীকে বুঝিয়ে দিতে হবে।
স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে উচ্চমূল্যের কারণে অনেক রোগী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে পারতেন না। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে হৃদরোগের চিকিৎসা আরও সহজলভ্য হবে এবং মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন।
উল্লেখ্য, “আর্জেন্টিনা সমর্থকদের স্বস্তি” অংশটি একটি ব্যঙ্গাত্মক বা রসাত্মক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের উপস্থাপনা; সরকারি সিদ্ধান্তটি মূলত হৃদরোগীদের চিকিৎসা ব্যয় কমানোর উদ্দেশ্যেই নেওয়া হয়েছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন