আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইউরোপজুড়ে চলমান ভয়াবহ তাপপ্রবাহে ফ্রান্স, বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ডসে অন্তত ৩ হাজার ৭০০ অতিরিক্ত মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। দেশগুলোর স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই সংখ্যা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ের এবং চূড়ান্ত হিসাব প্রকাশের পর মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
জুন মাসের শেষ সপ্তাহে ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০ থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত স্থায়ী এই তাপপ্রবাহ সাম্প্রতিক ইতিহাসে ইউরোপের অন্যতম ভয়াবহ তাপদাহ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ফ্রান্সে সবচেয়ে বেশি ২ হাজার ২৫ জন অতিরিক্ত মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৪৫ বছরের বেশি বয়সী মানুষের মধ্যে মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সময়ে বাসাবাড়িতে মৃত্যুর হার ৯১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, আর বৃদ্ধাশ্রম ও হাসপাতালেও মৃত্যু বেড়েছে। রাজধানী প্যারিস অঞ্চলে পরিস্থিতি ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ।
বেলজিয়ামে প্রায় ১ হাজার ২০০ অতিরিক্ত মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৮৫ বছরের বেশি বয়সীদের সংখ্যা ছিল ৫৩০ জনের বেশি। তবে ৬৫ বছরের কম বয়সীদের মধ্যেও প্রায় ১৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা দেশটির স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের উদ্বিগ্ন করেছে। তারা একে সাম্প্রতিক সময়ের নজিরবিহীন পরিস্থিতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
নেদারল্যান্ডসে অন্তত ৪৮০ জনের অতিরিক্ত মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। অধিকাংশ ভুক্তভোগীর বয়স ছিল ৮০ বছরের বেশি। দেশটির আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, এবারের জুন মাসে কয়েকটি অঞ্চলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে।
তীব্র গরমের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে, সড়ক ও রেল অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে এবং হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বেড়েছে। অনেক স্থানে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলো অতিরিক্ত রোগীর চাপে হিমশিম খাচ্ছে।
জলবায়ুবিজ্ঞানীরা বলছেন, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই এ ধরনের চরম তাপপ্রবাহের ঘটনা ক্রমেই বেশি ঘন ঘন ও তীব্র আকারে দেখা দিচ্ছে। তাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি ভবিষ্যতে ইউরোপের জনস্বাস্থ্য ও অবকাঠামোর জন্য আরও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
✍️ মন্তব্য লিখুন