স্পোর্টস ডেস্ক
ফুটবল বিশ্বকাপ শুধু দলগত সাফল্যের গল্পই নয়, কখনো কখনো এটি হয়ে ওঠে পারিবারিক ঐতিহ্যেরও অনন্য মঞ্চ। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে এমনই এক ইতিহাস গড়েছেন নিউজিল্যান্ডের ডিফেন্ডার Tyler Bindon। বিশ্বকাপে মাঠে নামার মাধ্যমে তিনি অনুসরণ করেছেন তাঁর মা Jenny Bindon–এর পথ, আর মা-ছেলে মিলে গড়েছেন বিশ্বকাপের নতুন ইতিহাস।
নিউজিল্যান্ডের হয়ে ইরানের বিপক্ষে দলের উদ্বোধনী ম্যাচে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামেন ২১ বছর বয়সী টাইলার। এর মধ্য দিয়েই তিনি ও তাঁর মা জেনি বাইন্ডন বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম মা-ছেলের জুটি হিসেবে নাম লেখান, যারা দুজনই নিজেদের দেশের হয়ে ফুটবল বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছেন।
জেনি বাইন্ডন ছিলেন নিউজিল্যান্ড নারী দলের গোলরক্ষক। তিনি ২০০৭ ও ২০১১ নারী বিশ্বকাপে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। পাশাপাশি অলিম্পিক গেমসেও নিউজিল্যান্ডের হয়ে খেলেছেন। অন্যদিকে টাইলার বর্তমানে ইংল্যান্ডের ক্লাব Nottingham Forest–এর খেলোয়াড় এবং জাতীয় দলের অন্যতম উদীয়মান ডিফেন্ডার হিসেবে বিবেচিত।
খেলাধুলা যেন বাইন্ডন পরিবারের রক্তেই মিশে আছে। টাইলারের বাবা গ্রান্ট বাইন্ডনও নিউজিল্যান্ডের পুরুষ ভলিবল দলের অধিনায়ক ছিলেন। ছোটবেলা থেকেই ক্রীড়ামুখী পরিবেশে বেড়ে ওঠা টাইলার পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবল প্রশিক্ষণ নিয়ে পেশাদার ক্যারিয়ার গড়ে তোলেন।
বিশ্বকাপে ছেলের অভিষেকের মুহূর্তটি গ্যালারিতে বসে উপভোগ করেন তাঁর মা-বাবা। দীর্ঘদিন আগে যে মঞ্চে জেনি নিজে দেশের জার্সি গায়ে খেলেছিলেন, সেই একই বিশ্বমঞ্চে ছেলেকে দেখতে পাওয়া ছিল তাঁর জন্যও আবেগঘন এক অভিজ্ঞতা।
বিশ্ব ফুটবলে বাবা-ছেলের উদাহরণ অনেক থাকলেও মা-ছেলের এমন অর্জন এই প্রথম। তাই নিউজিল্যান্ডের ফুটবল ইতিহাসের পাশাপাশি বিশ্বকাপের ইতিহাসেও বিশেষ স্থান করে নিয়েছেন টাইলার ও জেনি বাইন্ডন। তাঁদের গল্প প্রমাণ করে, স্বপ্ন ও অনুপ্রেরণার উত্তরাধিকার কখনো কখনো প্রজন্ম পেরিয়েও সমান উজ্জ্বল হয়ে থাকে।

✍️ মন্তব্য লিখুন