দেশের নিবন্ধিত বেসরকারি এতিমখানাগুলোতে থাকা এতিম শিশুদের খাদ্য ও মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য ১৪০ কোটি ১১ লাখ ৮ হাজার টাকার সরকারি ভাতা অনুমোদন দিয়েছে সরকার। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয় কিস্তির এই অর্থ সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর সারা দেশের ৬৪ জেলার ৪ হাজার ২০৯টি বেসরকারি এতিমখানার অনুকূলে বরাদ্দ করা হয়েছে।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই বরাদ্দের আওতায় ১ লাখ ১৬ হাজার ৭৫৯ জন এতিম শিশু উপকৃত হবে। প্রতিটি শিশুর জন্য মাসিক ২ হাজার টাকা হারে ছয় মাসের অনুদান নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে জানুয়ারি থেকে জুন ২০২৬ পর্যন্ত একজন শিশু মোট ১২ হাজার টাকা সহায়তা পাবে।
চলতি অর্থবছরে ‘বেসরকারি এতিমখানা’ খাতে মোট ২৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর আগে প্রথম কিস্তিতে ১৩৯ কোটি ৮৮ লাখ ৭৬ হাজার টাকা ছাড় করা হয়েছিল। নতুন করে দ্বিতীয় কিস্তির ১৪০ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ অনুমোদনের ফলে পুরো অর্থই এখন বিতরণের আওতায় চলে এসেছে।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, বরাদ্দকৃত অর্থ মূলত শিশুদের খাদ্য, পুষ্টি ও দৈনন্দিন জীবনযাপনের প্রয়োজন মেটাতে ব্যয় করা হবে। অর্থ বিতরণ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে ‘সরকারি অনুদান বরাদ্দ ও বণ্টন নীতিমালা-২০১৪’ কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে এবং মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সমাজসেবা অধিদপ্তর বলছে, বেসরকারি এতিমখানাগুলোর বড় অংশ সীমিত আর্থিক সক্ষমতার মধ্যে পরিচালিত হয়। ফলে সরকারি এই অনুদান এতিম শিশুদের নিরাপদ ও মানবিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালন ব্যয় নির্বাহেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় এতিম শিশুদের জন্য নিয়মিত সরকারি সহায়তা তাদের পুষ্টি, শিক্ষা ও সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। সময়মতো অর্থ বিতরণ হলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের হাজার হাজার সুবিধাবঞ্চিত শিশুর জীবনমান উন্নয়নে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
✍️ মন্তব্য লিখুন