মেহেরপুর সদর উপজেলার বুড়িপোতা সীমান্তে চারজন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের বিরুদ্ধে। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় জনসাধারণের সতর্ক অবস্থানের কারণে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
শুক্রবার ভোরে বুড়িপোতা সীমান্তের খালপাড়া এলাকায় সীমান্তসংলগ্ন শূন্যরেখার কাছে চারজন ব্যক্তিকে অবস্থান করতে দেখেন স্থানীয়রা। তাদের মধ্যে একজন পুরুষ ও তিনজন নারী ছিলেন বলে স্থানীয়দের দাবি। বিষয়টি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে বিজিবিকে অবহিত করা হয় এবং সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ওই ব্যক্তিদের বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে সন্দেহ দেখা দিলে বিজিবি দ্রুত ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়। বিজিবির কঠোর অবস্থানের মুখে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সীমান্ত এলাকা থেকে সরে যায়। তাদের পরিচয়, জাতীয়তা বা কী কারণে সেখানে আনা হয়েছিল সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিজিবি-৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান গণমাধ্যমকে জানান, ভোরের দিকে বিএসএফ চারজনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করেছিল। তবে বিজিবির সতর্ক ও কঠোর অবস্থানের কারণে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি এবং ফিরে যায়। তিনি আরও বলেন, সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা হয়েছে এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঘটনাস্থলের বিপরীতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার তেহট্ট এলাকার একটি বিএসএফ ক্যাম্প রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে মেহেরপুর সীমান্তে একাধিকবার পুশইনের অভিযোগ সামনে এসেছে, যা সীমান্তবাসীর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সীমান্ত নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, পুশইনের অভিযোগ দুই দেশের সীমান্ত ব্যবস্থাপনার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত কূটনৈতিক ও সীমান্ত পর্যায়ের যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এদিকে বিজিবি জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশইনের চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হবে।
✍️ মন্তব্য লিখুন