নিজস্ব প্রতিবেদক
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলায় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বিশেষ বরাদ্দের সামগ্রী বিতরণে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। দরিদ্র এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর নামে বরাদ্দ হওয়া একটি বাইসাইকেল স্থানীয় এক জামায়াত নেতা নিজেই গ্রহণ করে তা নিজের নাতিকে দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি জানাজানি হলে ব্যাপক সমালোচনার মুখে শেষ পর্যন্ত সাইকেলটি প্রশাসনের কাছে ফেরত দেওয়া হয়।
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন কোটচাঁদপুর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা তাজুল ইসলাম। স্থানীয় সূত্র জানায়, কোটচাঁদপুর কামিল মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাইমুন ইসলামের নামে একটি বাইসাইকেল বরাদ্দ হয়েছিল। তবে শিক্ষার্থীকে না দিয়ে মাওলানা তাজুল ইসলাম নিজেই মাস্টাররোলে স্বাক্ষর করে সাইকেলটি গ্রহণ করেন এবং পরে সেটি নিজের নাতনিকে ব্যবহার করতে দেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সাইমুন ইসলাম দাবি করেছে, তার জন্মনিবন্ধন সনদ ব্যবহার করে সাইকেলটি উত্তোলন করা হয়েছিল। পরে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার মুখে দ্রুত সাইকেলটি তার বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে মাওলানা তাজুল ইসলাম প্রথমে সাইকেলটি প্রতিবেশীর এক শিশুকে দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করলেও পরে জানান, আর্থিক সংকটে থাকা তার ছেলের মেয়েকে সাইকেলটি দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন যে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতারাও বরাদ্দকৃত মালামাল নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নিয়েছেন।
কোটচাঁদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপা রানী সরকার অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, স্বজনপ্রীতির অভিযোগ ওঠার পর স্থানীয় সংসদ সদস্যের পরামর্শে সাইকেলটি ফেরত নেওয়া হয়েছে। প্রকৃত উপকারভোগীর কাছে নতুন করে সেটি হস্তান্তর করা হবে। পাশাপাশি অন্যান্য বরাদ্দ সামগ্রী বিতরণেও কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ সরকারি সহায়তা রাজনৈতিক প্রভাব বা স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে বণ্টন করা হলে প্রকৃত সুবিধাভোগীরা বঞ্চিত হন এবং জনআস্থাও ক্ষুণ্ন হয়। তাই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
✍️ মন্তব্য লিখুন