লক্ষ্মীপুর সংবাদদাতা
লক্ষ্মীপুরের একটি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সচিব মো. আফসার উদ্দিনের বিরুদ্ধে সরকারি সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তাঁকে ‘খুশি’ না করলে ইউনিয়ন পরিষদে বিভিন্ন সেবা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের কাজ সহজে এগোয় না।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, জন্মনিবন্ধন, বিভিন্ন সনদ, প্রত্যয়নপত্রসহ ইউনিয়ন পরিষদের নিয়মিত সেবা নিতে গিয়ে তাঁদের নানা ধরনের হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে। কেউ কেউ নির্ধারিত সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার অভিযোগও করেছেন। তবে এসব অভিযোগের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ ও ঘটনার বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সরকারি সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে দালাল বা ব্যক্তিগত যোগাযোগের ওপর নির্ভরশীলতা তৈরি হলে সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন। ইউনিয়ন পরিষদে নাগরিক সেবা স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
তবে ইউপি সচিব আফসার উদ্দিনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা জরুরি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপও চেয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরকারি সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ফি ছাড়া অতিরিক্ত অর্থ আদায় বা সেবা পেতে কোনো ব্যক্তিকে খুশি করার বাধ্যবাধকতা থাকলে তা প্রশাসনিকভাবে তদন্তের বিষয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে নাগরিক সেবা নিয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ অতীতেও সংবাদে এসেছে। ২০২২ সালে কমলনগরের চর মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদে জন্মনিবন্ধন করতে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। সে সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
✍️ মন্তব্য লিখুন