দারিদ্র্য ও চিকিৎসার অভাবে মানবেতর জীবন, সরকারি সহায়তার আশায় পরিবার
মাদারীপুর সংবাদদাতা
মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার একসময়কার মেধাবী শিক্ষার্থী বনলতা হালদার প্রায় দেড় যুগ ধরে গাছের সঙ্গে শিকলবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। মানসিক অসুস্থতায় আক্রান্ত হওয়ার পর দারিদ্র্য ও চিকিৎসার অভাবে তার জীবন আজ সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে বাড়ির পাশের একটি গাছের নিচে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের নয়াকান্দি গ্রামের মৃত কার্তিক হালদারের মেয়ে বনলতা হালদার শৈশবে স্বাভাবিক ও মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় হঠাৎ তার আচরণে পরিবর্তন দেখা দেয় এবং ধীরে ধীরে তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। পরিবারের সদস্যরা প্রথম দিকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করলেও আর্থিক সংকটের কারণে তা দীর্ঘস্থায়ী করা সম্ভব হয়নি।
বর্তমানে বনলতার মা ও দুই ভাই অন্যের জমিতে কাজ করে কোনোমতে সংসার চালান। পরিবারের দাবি, মানুষের নিরাপত্তা ও বনলতার অস্বাভাবিক আচরণের কারণে বাধ্য হয়েই তাকে শিকলে বেঁধে রাখতে হচ্ছে। তবে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ পেলে তিনি আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন বলে তাদের বিশ্বাস।
বনলতার বড় ভাই মিন্টু হালদার বলেন, “টাকার অভাবে বোনের সঠিক চিকিৎসা করাতে পারিনি। এখন সে মানুষ দেখলে উত্তেজিত হয়ে যায় এবং গালিগালাজ করে। বাধ্য হয়েই তাকে শিকলে রাখতে হচ্ছে। যদি কোনো সহায়তা পাওয়া যায়, তাহলে হয়তো বোনকে সুস্থ করা সম্ভব হবে।”
নবগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দুলাল তালুকদার জানান, ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে বনলতার জন্য প্রতিবন্ধী ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে তার পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসার জন্য আরও বড় পরিসরের সহযোগিতা প্রয়োজন।
ডাসার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকিয়া সুলতানা বলেন, বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে বনলতার প্রতিবন্ধী কার্ড করা হয়েছে এবং পরিবারের সম্মতি পেলে সরকারিভাবে তাকে মানসিক হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে।
এলাকাবাসীর দাবি, একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর এমন মানবেতর জীবন সমাজের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। বনলতার উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করে তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
✍️ মন্তব্য লিখুন