নিজস্ব প্রতিবেদক
বরিশালে একটি আবাসন প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) শারীরিকভাবে নির্যাতন করে চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান লিটু যুবদলের কোনো নেতা বা কর্মী নন বলে দাবি করেছে সংগঠনটির স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা।
রোববার দুপুরে বরিশাল প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জেলা ও মহানগর যুবদলের নেতারা বলেন, লিটু বর্তমান কিংবা অতীতের কোনো কমিটিতে ছিলেন না এবং দলীয় কোনো আন্দোলন-সংগ্রামেও তার সম্পৃক্ততা ছিল না। তাদের দাবি, ব্যক্তির অপরাধের দায় কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের ওপর চাপানো উচিত নয়।
যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি মোনায়েম মুন্নাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে জানান, অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান লিটু বরিশাল মহানগর যুবদলের কোনো পদে কখনো দায়িত্ব পালন করেননি। তবে স্থানীয়ভাবে তিনি যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে পরিচিত ছিলেন বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে গত ২৭ জুন বরিশাল নগরীর সদর রোডে অবস্থিত অগ্রণী হাউজিং লিমিটেডের কার্যালয়ে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল আজিজ হাওলাদারকে মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ৭০ লাখ টাকার একটি চেক, একটি সাদা চেক এবং দুটি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়া হয়। পরে ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।
ভুক্তভোগী আব্দুল আজিজ দাবি করেন, লিটু একসময় তাদের ব্যবসায়িক অংশীদার ছিলেন। বিনিয়োগের বিপরীতে জমি হস্তান্তরের মাধ্যমে সব হিসাব চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হলেও পরে তিনি এক কোটি টাকা দাবি করতে থাকেন। সেই বিরোধের জেরেই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত লিটু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সবাই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ছিলেন এবং তাদের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে তিনি সংবাদ সম্মেলন করবেন বলেও জানিয়েছেন।
এরই মধ্যে আদালতের নির্দেশে মামলাটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে এবং পুলিশ মূল অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান লিটুসহ আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের আটকের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
✍️ মন্তব্য লিখুন