আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে আবারও পূর্ণ সক্ষমতায় ড্রোন উৎপাদনে ফিরেছে ইরান। দেশটির সামরিক ও প্রতিরক্ষা শিল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, অভ্যন্তরীণ কারখানাগুলোতে নতুন করে উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে এবং রপ্তানিমুখী সামরিক প্রযুক্তি উন্নয়নেও জোর দেওয়া হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরানের কয়েকটি সামরিক স্থাপনা ও অস্ত্র গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দেশটি দ্রুত পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু করে। বিশেষ করে ড্রোন প্রযুক্তিকে ভবিষ্যৎ প্রতিরক্ষা কৌশলের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে দেখছে তেহরান। এ কারণে স্বল্প সময়ের মধ্যেই উৎপাদন লাইন পুনরায় সচল করা হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন সামরিক কারখানায় নজরদারি ড্রোন, আত্মঘাতী ড্রোন এবং দীর্ঘপাল্লার আক্রমণাত্মক ড্রোন তৈরির কাজ চলছে। নতুন উৎপাদিত ড্রোনগুলোর মধ্যে উন্নত নেভিগেশন ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক জ্যামিং প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং দূরপাল্লায় লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করার প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার মধ্যেও স্থানীয় প্রযুক্তিনির্ভর সামরিক শিল্প গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে ইরান। গত কয়েক বছরে দেশটি নিজস্ব ড্রোন প্রযুক্তিকে এমন পর্যায়ে নিয়ে গেছে, যা এখন মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে।
এদিকে পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে, ইরান তার তৈরি ড্রোন আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর কাছে সরবরাহ করছে। যদিও তেহরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের সামরিক উৎপাদন সম্পূর্ণ আত্মরক্ষামূলক এবং জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে পরিচালিত।
ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ড্রোন উৎপাদনে ইরানের দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে এটি দেশটির সামরিক সক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরতার বার্তাও বহন করছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন