প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন এক বিস্ফোরক দাবি সামনে এনেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম The New York Times। পত্রিকাটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা Ayatollah Ali Khamenei-কে হত্যার পর দেশটির ক্ষমতায় সাবেক প্রেসিডেন্ট Mahmoud Ahmadinejad-কে বসানোর একটি গোপন পরিকল্পনা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তবে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের আগেই তা ব্যর্থ হয়ে যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump ইরানের অভ্যন্তর থেকেই নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার পক্ষে মত দিয়েছিলেন। সেই প্রেক্ষাপটে আলোচনায় উঠে আসে মাহমুদ আহমদিনেজাদের নাম। যদিও তিনি একসময় তীব্র পশ্চিমাবিরোধী ও ইসরায়েলবিরোধী নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের অবনতি ঘটে এবং তিনি কার্যত গৃহবন্দি অবস্থায় ছিলেন।
নিউইয়র্ক টাইমসের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কিছু নীতিনির্ধারক মনে করেছিলেন, ইরানের রাজনৈতিক কাঠামোর ভেতরে বিভাজন সৃষ্টি করে নতুন ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরি করা সম্ভব হতে পারে। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই আহমদিনেজাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুদ্ধের শুরুর দিকে তেহরানে তাঁর বাসভবনের কাছে একটি হামলা চালানো হয়, যার উদ্দেশ্য ছিল তাঁকে গৃহবন্দিত্ব থেকে মুক্ত করা।
তবে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। হামলার সময় বিস্ফোরণে আহমদিনেজাদ গুরুতর আহত হন বলে দাবি করা হয়েছে। এরপর তিনি পুরো পরিকল্পনা থেকে সরে দাঁড়ান এবং আত্মগোপনে চলে যান। প্রতিবেদনে বলা হয়, এরপর থেকে তাঁকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি এবং তাঁর বর্তমান অবস্থান সম্পর্কেও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই দাবি সত্য হয়ে থাকে, তাহলে এটি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে। কারণ ইরানের মতো একটি রাষ্ট্রে নেতৃত্ব পরিবর্তনের জন্য বাইরের শক্তির এমন প্রত্যক্ষ পরিকল্পনা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের সংকট তৈরি করতে পারত।
তবে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল কিংবা ইরানের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে উত্থাপিত তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, চলমান সংঘাতের আবহে তথ্যযুদ্ধ ও গোপন কূটনৈতিক তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় এ ধরনের খবর সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
✍️ মন্তব্য লিখুন