সাইফুদ্দিন খালেদ
১৯৭১ এখনো জীবিত”: কেন ভোটে দেয়াল ভাঙতে পারছে না বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী?
📌 প্রশাসনিক প্রভাব?
📌 সাংগঠনিক শক্তি?
📌 কৌশলগত জোট?
সব হিসাব মেলানোর পরও কেন শেষ পর্যন্ত ব্যর্থতা?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, কারণটি কৌশলের চেয়ে গভীর—এটি ইতিহাসের প্রশ্ন। বাংলাদেশের রাজনীতিতে মুক্তিযুদ্ধ শুধু একটি অতীত ঘটনা নয়; এটি জাতীয় পরিচয়ের কেন্দ্রবিন্দু।
“রাজাকার” ইস্যু রাজনৈতিক বিতর্কে যতবার সামনে এসেছে, ততবারই জনমতের একাংশে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। তরুণ ভোটারদের মধ্যেও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে বহমান। ইতিহাস শুধু অতীত নয়, রাজনৈতিক বাস্তবতা
বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে এক রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে। সেই যুদ্ধের সময়কার ভূমিকা নিয়ে যে বিতর্ক ও অভিযোগ রয়েছে, তা কেবল রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ভাষ্য নয়—এটি জাতীয় চেতনার অংশ হয়ে গেছে। “রাজাকার” শব্দটি এখানে শুধু একটি ট্যাগ নয়; এটি একটি ঐতিহাসিক অবস্থানের প্রতীক।
রাজনীতিতে ইমেজই সব। আর যখন একটি দলের সঙ্গে স্বাধীনতাবিরোধী অবস্থানের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত থাকে, তখন সেই ইতিহাস প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে রাজনৈতিক আচরণকে প্রভাবিত করে।
তরুণ সমাজ কি ভুলে গেছে ১৯৭১?
অনেকে মনে করেছিলেন, সময়ের ব্যবধানে ইতিহাসের তীব্রতা কমে যাবে। কিন্তু বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। বর্তমান তরুণ প্রজন্ম সরাসরি যুদ্ধ দেখেনি, কিন্তু পাঠ্যপুস্তক, গণমাধ্যম, সাংস্কৃতিক চর্চা এবং পারিবারিক স্মৃতির ভেতর দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ তাদের রাজনৈতিক বোধের অংশ হয়ে উঠেছে।
অর্থাৎ, ১৯৭১ কোনো অতীত অধ্যায় নয়—এটি এখনো ভোটের বাক্সে প্রভাব ফেলে।
প্রশাসনিক চাপ বনাম জনমত
রাজনীতিতে সংগঠন গুরুত্বপূর্ণ, প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ, কৌশল গুরুত্বপূর্ণ—কিন্তু শেষ কথা বলে জনমত। যদি বৃহত্তর জনগোষ্ঠী মনে করে কোনো দল জাতীয় চেতনার প্রশ্নে স্পষ্ট ও গ্রহণযোগ্য অবস্থান নিতে পারেনি, তবে প্রশাসনিক বা সাংগঠনিক শক্তি দিয়ে সেই ঘাটতি পূরণ করা কঠিন।
তাহলে ভবিষ্যৎ কী?
রাজনীতিতে স্থায়ী শূন্যতা থাকে না। পরিবর্তন সম্ভব—কিন্তু তার জন্য প্রয়োজন আদর্শিক পুনর্মূল্যায়ন, স্পষ্ট অবস্থান এবং জাতীয় ইতিহাসের সঙ্গে সমন্বয়। বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্ন এড়িয়ে টেকসই ক্ষমতায়ন অর্জন করা কঠিন।
দিন শেষে, গণতন্ত্রে চূড়ান্ত রায় দেয় জনগণ। আর জনগণের স্মৃতি—বিশেষ করে স্বাধীনতার স্মৃতি—এ দেশের রাজনীতিতে এখনো সবচেয়ে শক্তিশালী ফ্যাক্টর।

✍️ মন্তব্য লিখুন