০৭:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫

টেনশন-ওভারথিঙ্কিং কি আপনাকে কুরে কুরে খাচ্ছে? বিজ্ঞান বলছে, মুক্তির ১০টি ধাপ!

ডেস্ক নিউজ

আপনি কি ছোট ছোট বিষয় নিয়ে অতিরিক্ত ভাবেন? তাহলে জেনে নিন মানসিক শান্তি ফেরানোর উপায়

আমরা প্রায়ই এমন কিছু ব্যাপার নিয়ে ভাবতে থাকি, যা হয়তো আমাদের জীবনে কোনো দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে না। ছোটখাটো বিষয় আমাদের মনের এত জায়গা দখল করে নেয় যে, আমরা আসলেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর দিকে মনোযোগ দিতে পারি না। এভাবে অতিরিক্ত চিন্তা বা ওভারথিঙ্কিং মানসিক চাপ, হতাশা ও উদ্বেগ বাড়িয়ে দেয়। তবে চিন্তার কারণ যাই হোক না কেন, আপনি চাইলে এ থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন। মানসিক প্রশান্তি ফেরানোর ১০টি কার্যকর উপায় জেনে নিন!

১. সবকিছু আপনার নিয়ন্ত্রণে নেই, এটা মেনে নিন

কেউ কী বলল, কী করল—এসব নিয়ে চিন্তা করার মানে নেই, কারণ আপনি অন্যের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না। তবে নিজের প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করা আপনার হাতে। তাই যে বিষয়গুলো আপনার নিয়ন্ত্রণে নেই, সেগুলোতে বেশি এনার্জি বা সময় অপচয় করবেন না।

২. চিন্তার মাত্রা বুঝতে ‘৭২ ঘণ্টা’ রুল অনুসরণ করুন

আপনি যে বিষয় নিয়ে চিন্তা করছেন, সেটি কি ৭২ ঘণ্টা পরও আপনার জীবনে গুরুত্বপূর্ণ থাকবে? এক সপ্তাহ বা এক মাস পরও কি সেটি আপনাকে প্রভাবিত করবে? যদি উত্তর হয় ‘না’, তাহলে এ নিয়ে বাড়তি চিন্তার প্রয়োজন নেই।

৩. চিন্তার চক্র ভাঙতে শরীরচর্চা করুন

ওভারথিঙ্কিং একটা চক্রের মতো, যা বারবার মাথার মধ্যে ঘুরতে থাকে। এই চক্র থেকে বেরিয়ে আসতে হলে শারীরিক নড়াচড়া করুন। হাঁটুন, এক্সারসাইজ করুন, যোগব্যায়াম করুন, বা শুধু এক কাপ চা বানিয়ে খান। শারীরিক কর্মকাণ্ড মনকে প্রশান্ত করে।

৪. ‘চিন্তার সময়’ নির্ধারণ করুন

আপনার মস্তিষ্ককে শৃঙ্খলিত করতে নির্দিষ্ট একটি সময় নির্ধারণ করুন, যখন আপনি শুধু চিন্তা করবেন। এই নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে ওভারথিঙ্কিং করলে নিজেকে থামান।

৫. সবসময় ‘সবচেয়ে খারাপ’ চিন্তা করা বন্ধ করুন

আপনার মস্তিষ্ক অনেক সময় খারাপ কিছুর জন্য প্রস্তুতি নিতে সবচেয়ে খারাপ সম্ভাবনার কথা ভাবে। কিন্তু বাস্তবে তা খুব কম ক্ষেত্রেই ঘটে। নিজেকে বলুন, “যদি সবচেয়ে খারাপ কিছু ঘটে, তাহলে আমি সেটার মোকাবিলা করব।”

৬. ‘জুম আউট’ করে চিন্তা করুন

পাঁচ বছর পরও কি আপনি এখনকার দুশ্চিন্তাগুলো মনে রাখবেন? সম্ভবত না। দূর থেকে বিষয়গুলোর দিকে তাকালে তা কম গুরুত্বপূর্ণ মনে হবে এবং দুশ্চিন্তা কমে যাবে।

৭. সমাধানের দিকে মনোযোগ দিন

কোনো সমস্যা হলে সেটা নিয়ে ‘প্যানিক মুডে’ না গিয়ে ‘প্রবলেম সলভিং মুডে’ যান। প্রতিটি সমস্যার সমাধান থাকে, শুধু আপনাকে সেটি খুঁজে বের করতে হবে।

৮. ধ্যান ও শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করুন

গভীরভাবে শ্বাস নিন এবং ধীরে ধীরে ছাড়ুন। ধ্যান বা মেডিটেশন মনকে শান্ত করতে এবং ওভারথিঙ্কিং কমাতে সাহায্য করে।

৯. ইতিবাচক চিন্তার চর্চা করুন

মস্তিষ্ক নেতিবাচক চিন্তার চক্রে পড়ে গেলে সেটাকে সচেতনভাবে ইতিবাচক চিন্তার দিকে নিয়ে যান। প্রতিদিন সকালে নিজেকে তিনটি ভালো কথা বলুন।

১০. মানসিক শান্তিকে প্রাধান্য দিন

দিনশেষে, মানসিক শান্তির চেয়ে বড় কিছু নেই। তাই যেকোনো মূল্যে সেটি রক্ষা করুন। যা আপনাকে দুশ্চিন্তায় ফেলবে না, শুধু সেটাতেই মনোযোগ দিন।

ওভারথিঙ্কিং এবং অযথা দুশ্চিন্তা থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন হতে পারে, তবে একবার এই অভ্যাস আয়ত্ত করতে পারলে জীবন হবে অনেক বেশি স্বস্তির। শুরু করুন আজ থেকেই!

 

Please Share This Post in Your Social Media

আপডেট: ১২:৪০:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ মার্চ ২০২৫
১৩

টেনশন-ওভারথিঙ্কিং কি আপনাকে কুরে কুরে খাচ্ছে? বিজ্ঞান বলছে, মুক্তির ১০টি ধাপ!

আপডেট: ১২:৪০:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ মার্চ ২০২৫

আপনি কি ছোট ছোট বিষয় নিয়ে অতিরিক্ত ভাবেন? তাহলে জেনে নিন মানসিক শান্তি ফেরানোর উপায়

আমরা প্রায়ই এমন কিছু ব্যাপার নিয়ে ভাবতে থাকি, যা হয়তো আমাদের জীবনে কোনো দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে না। ছোটখাটো বিষয় আমাদের মনের এত জায়গা দখল করে নেয় যে, আমরা আসলেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর দিকে মনোযোগ দিতে পারি না। এভাবে অতিরিক্ত চিন্তা বা ওভারথিঙ্কিং মানসিক চাপ, হতাশা ও উদ্বেগ বাড়িয়ে দেয়। তবে চিন্তার কারণ যাই হোক না কেন, আপনি চাইলে এ থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন। মানসিক প্রশান্তি ফেরানোর ১০টি কার্যকর উপায় জেনে নিন!

১. সবকিছু আপনার নিয়ন্ত্রণে নেই, এটা মেনে নিন

কেউ কী বলল, কী করল—এসব নিয়ে চিন্তা করার মানে নেই, কারণ আপনি অন্যের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না। তবে নিজের প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করা আপনার হাতে। তাই যে বিষয়গুলো আপনার নিয়ন্ত্রণে নেই, সেগুলোতে বেশি এনার্জি বা সময় অপচয় করবেন না।

২. চিন্তার মাত্রা বুঝতে ‘৭২ ঘণ্টা’ রুল অনুসরণ করুন

আপনি যে বিষয় নিয়ে চিন্তা করছেন, সেটি কি ৭২ ঘণ্টা পরও আপনার জীবনে গুরুত্বপূর্ণ থাকবে? এক সপ্তাহ বা এক মাস পরও কি সেটি আপনাকে প্রভাবিত করবে? যদি উত্তর হয় ‘না’, তাহলে এ নিয়ে বাড়তি চিন্তার প্রয়োজন নেই।

৩. চিন্তার চক্র ভাঙতে শরীরচর্চা করুন

ওভারথিঙ্কিং একটা চক্রের মতো, যা বারবার মাথার মধ্যে ঘুরতে থাকে। এই চক্র থেকে বেরিয়ে আসতে হলে শারীরিক নড়াচড়া করুন। হাঁটুন, এক্সারসাইজ করুন, যোগব্যায়াম করুন, বা শুধু এক কাপ চা বানিয়ে খান। শারীরিক কর্মকাণ্ড মনকে প্রশান্ত করে।

৪. ‘চিন্তার সময়’ নির্ধারণ করুন

আপনার মস্তিষ্ককে শৃঙ্খলিত করতে নির্দিষ্ট একটি সময় নির্ধারণ করুন, যখন আপনি শুধু চিন্তা করবেন। এই নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে ওভারথিঙ্কিং করলে নিজেকে থামান।

৫. সবসময় ‘সবচেয়ে খারাপ’ চিন্তা করা বন্ধ করুন

আপনার মস্তিষ্ক অনেক সময় খারাপ কিছুর জন্য প্রস্তুতি নিতে সবচেয়ে খারাপ সম্ভাবনার কথা ভাবে। কিন্তু বাস্তবে তা খুব কম ক্ষেত্রেই ঘটে। নিজেকে বলুন, “যদি সবচেয়ে খারাপ কিছু ঘটে, তাহলে আমি সেটার মোকাবিলা করব।”

৬. ‘জুম আউট’ করে চিন্তা করুন

পাঁচ বছর পরও কি আপনি এখনকার দুশ্চিন্তাগুলো মনে রাখবেন? সম্ভবত না। দূর থেকে বিষয়গুলোর দিকে তাকালে তা কম গুরুত্বপূর্ণ মনে হবে এবং দুশ্চিন্তা কমে যাবে।

৭. সমাধানের দিকে মনোযোগ দিন

কোনো সমস্যা হলে সেটা নিয়ে ‘প্যানিক মুডে’ না গিয়ে ‘প্রবলেম সলভিং মুডে’ যান। প্রতিটি সমস্যার সমাধান থাকে, শুধু আপনাকে সেটি খুঁজে বের করতে হবে।

৮. ধ্যান ও শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করুন

গভীরভাবে শ্বাস নিন এবং ধীরে ধীরে ছাড়ুন। ধ্যান বা মেডিটেশন মনকে শান্ত করতে এবং ওভারথিঙ্কিং কমাতে সাহায্য করে।

৯. ইতিবাচক চিন্তার চর্চা করুন

মস্তিষ্ক নেতিবাচক চিন্তার চক্রে পড়ে গেলে সেটাকে সচেতনভাবে ইতিবাচক চিন্তার দিকে নিয়ে যান। প্রতিদিন সকালে নিজেকে তিনটি ভালো কথা বলুন।

১০. মানসিক শান্তিকে প্রাধান্য দিন

দিনশেষে, মানসিক শান্তির চেয়ে বড় কিছু নেই। তাই যেকোনো মূল্যে সেটি রক্ষা করুন। যা আপনাকে দুশ্চিন্তায় ফেলবে না, শুধু সেটাতেই মনোযোগ দিন।

ওভারথিঙ্কিং এবং অযথা দুশ্চিন্তা থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন হতে পারে, তবে একবার এই অভ্যাস আয়ত্ত করতে পারলে জীবন হবে অনেক বেশি স্বস্তির। শুরু করুন আজ থেকেই!