নিজস্ব প্রতিবেদক
নারীদের জন্য আলাদা বাসসেবা চালুর উদ্যোগে ‘গোলাপি বাস’ শব্দটি এখন আলোচনায়। তবে এই গোলাপি রং বেছে নেওয়ার পেছনে মূল উদ্দেশ্য নারীদের জন্য একটি সহজে শনাক্তযোগ্য ও আলাদা গণপরিবহন সেবা তৈরি করা—শুধু নারীদের পছন্দের রং হিসেবে গোলাপি ব্যবহারের বিষয়টি নয়।
ঢাকায় নারীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সরকার স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় ‘উইমেন-অনলি’ বা শুধু নারীদের জন্য বাস চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে আটটি রুটে নয়টি বাস চালুর কথা রয়েছে। এসব বাসে চালক ও সহকারীসহ কর্মীদের নারী রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীও নারীদের ব্যবস্থাপনায় ‘পিংক বাস সার্ভিস’ চালুর কথা জানান। সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, এর লক্ষ্য নারীদের জন্য নিরাপদ ও বৈষম্যহীন কর্মপরিবেশ এবং যাতায়াতের সুযোগ তৈরি করা।
গোলাপিই কেন?
গণপরিবহনে রঙের ব্যবহার অনেক সময় একটি দৃশ্যমান পরিচয় বা কালার কোড হিসেবে কাজ করে। দূর থেকেই গোলাপি বাস আলাদা করে চেনা সম্ভব হওয়ায় যাত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট সেবাটি শনাক্ত করা সহজ হয়। নারীদের জন্য নির্ধারিত বাসকে অন্য সাধারণ বাস থেকে আলাদা করাও এর একটি উদ্দেশ্য।
তবে গোলাপি রং মানেই যে নারীদের স্বাভাবিক বা ‘জন্মগত’ রং—এমন বৈজ্ঞানিক বা সরকারি কোনো বাধ্যতামূলক নিয়ম নেই। বরং সমাজ ও সংস্কৃতিতে দীর্ঘদিন ধরে গোলাপিকে নারীত্বের সঙ্গে যুক্ত করার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। ইতিহাসেও দেখা যায়, গোলাপি-নীলকে ছেলে-মেয়ের নির্দিষ্ট রং হিসেবে ভাগ করার ধারণা সব সময় একই ছিল না।
আগে যে গোলাপি বাস চালু হয়েছিল
ঢাকায় ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে গোলাপি রঙের বাস চালুর আরেকটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তখন উত্তরার আবদুল্লাহপুর থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে ২১টি কোম্পানির প্রায় ২ হাজার ৬১০টি বাসকে গোলাপি রং করে কাউন্টারভিত্তিক টিকিট ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ওই উদ্যোগের উদ্দেশ্য ছিল নগর পরিবহনে শৃঙ্খলা আনা; সেটি নারীদের জন্য নির্ধারিত বাস ছিল না।
ফলে বর্তমানে ‘নারীদের গোলাপি বাস’ এবং আগের ‘গোলাপি বাস’—দুটি উদ্যোগকে এক করে দেখার সুযোগ নেই। আগের উদ্যোগে গোলাপি ছিল মূলত পরিবহন ব্যবস্থার একটি অভিন্ন পরিচয়, আর নতুন পরিকল্পনায় গোলাপি বাস নারীদের জন্য আলাদা সেবা চিহ্নিত করার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাসের রং পরিবর্তন করলেই নারীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত হবে না। নির্দিষ্ট রুট, নিয়মিত পরিচালনা, প্রশিক্ষিত নারী চালক ও কর্মী, নির্ধারিত স্টপেজ এবং কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করাই হবে এই উদ্যোগের সাফল্যের মূল শর্ত।
✍️ মন্তব্য লিখুন