আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বিশ্ববাজারে ডিজেলের সরবরাহ সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির মধ্যে ইউরোপের জরুরি মজুত থেকে ডিজেল বাজারে ছাড়ার জন্য জার্মানি ও ফ্রান্সের ওপর চাপ বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশ দুটি জরুরি ডিজেল মজুত না ছাড়লে যুক্তরাষ্ট্র ডিজেল রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনা করছে বলে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের বরাত দিয়ে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থান ইউরোপের ওপর ওয়াশিংটনের চাপ আরও বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম কমাতে ইউরোপীয় দেশগুলোর জরুরি মজুত থেকে ডিজেল ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছে। একটি সূত্র জানিয়েছে, আগামী ছয় মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে প্রায় ১২ কোটি ব্যারেল ডিজেল বাজারে ছাড়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
জার্মানি ও ফ্রান্স ইউরোপীয় ইউনিয়নের বড় দুটি জরুরি জ্বালানি মজুতধারী দেশ। সর্বশেষ বিস্তারিত তথ্য অনুযায়ী, দেশ দুটি মিলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের জরুরি গ্যাসঅয়েল ও ডিজেল মজুতের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি ধারণ করে। তবে শীত মৌসুম সামনে থাকায় মজুত কমিয়ে ফেললে ভবিষ্যতে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ইউরোপের সক্ষমতা কমে যেতে পারে—এমন উদ্বেগও রয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রেও ডিজেলের দাম দ্রুত বেড়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে দেশটিতে ডিজেলের গড় খুচরা দাম প্রতি গ্যালনে প্রায় ৬ দশমিক ৫৩ ডলারে উঠে রেকর্ড সৃষ্টি করে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ট্রাম্প প্রশাসন পূর্ণাঙ্গ রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি শোধনাগারগুলোর স্বেচ্ছায় রপ্তানি কমানো এবং অন্যান্য সরবরাহ বাড়ানোর পথও বিবেচনা করছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের ডিজেল রপ্তানি বন্ধ হলে তার প্রভাব শুধু দেশটির বাজারে সীমাবদ্ধ থাকবে না বলে সতর্ক করেছেন জ্বালানি খাতের বিশ্লেষকেরা। যুক্তরাষ্ট্র আগস্টে প্রতিদিন রেকর্ড প্রায় ১৬ লাখ ব্যারেল ডিজেল রপ্তানি করেছে। ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা ও অন্যান্য অঞ্চলের দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ডিজেলের গুরুত্বপূর্ণ ক্রেতা হওয়ায় রপ্তানি বন্ধ হলে বৈশ্বিক সরবরাহ আরও সংকুচিত হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের তেল ও গ্যাস শিল্পের সংগঠন আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটও রপ্তানি সীমিত করার বিরোধিতা করেছে। সংগঠনটির মতে, রপ্তানি কমিয়ে দিলে যুক্তরাষ্ট্রের শোধনাগারগুলো উৎপাদন কমাতে পারে, যার ফলে ডিজেলের পাশাপাশি গ্যাসোলিন ও জেট ফুয়েলের সরবরাহও কমে যেতে পারে।
বিশ্বজুড়ে বর্তমান ডিজেল সংকটের পেছনে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, শোধনাগারে বিঘ্ন এবং বিভিন্ন দেশের রপ্তানি সীমাবদ্ধতাকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাশিয়াও অক্টোবরের শেষ পর্যন্ত ডিজেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা বাড়িয়েছে, অন্যদিকে চীনের শোধনাগারগুলো অক্টোবরের জ্বালানি রপ্তানি কমিয়ে অভ্যন্তরীণ মজুত বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।
ইউরোপের দেশগুলো এখন জরুরি মজুত থেকে কতটা ডিজেল বাজারে ছাড়বে, তা নিয়ে আলোচনা করছে। ইউরোপীয় কমিশন ও ইইউভুক্ত দেশগুলোর জ্বালানি-সংক্রান্ত টাস্কফোর্সও বিষয়টি নিয়ে বৈঠক করেছে। একই সময়ে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ জি-৭ দেশগুলোর নেতাদের নিয়ে জ্বালানি সরবরাহ ও জরুরি মজুত সমন্বয়ের বিষয়ে আলোচনা করার উদ্যোগ নিয়েছেন।
✍️ মন্তব্য লিখুন