আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে ওই অঞ্চলে আরও প্রায় ৯ হাজার মার্কিন সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে একটি তৃতীয় বিমানবাহী রণতরীসহ কয়েকটি যুদ্ধজাহাজও মধ্যপ্রাচ্যের দিকে পাঠানো হচ্ছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
নতুন করে পাঠানো বাহিনীর মধ্যে ৭ হাজারের বেশি নাবিক ও প্রায় ২ হাজার মেরিন রয়েছেন। তাঁদের বহনকারী নৌবহরের মধ্যে রয়েছে বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্টের ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ এবং ইউএসএস মাকিন আইল্যান্ডের অ্যাম্ফিবিয়াস রেডিনেস গ্রুপ। মাকিন আইল্যান্ডের সঙ্গে ইউএসএস জন পি. মার্থা ও ইউএসএস অ্যাঙ্করেজ নামের দুটি অ্যাম্ফিবিয়াস জাহাজও রয়েছে।
এই মোতায়েন সম্পন্ন হলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি বিমানবাহী রণতরী একসঙ্গে অবস্থান করতে পারে। মার্কিন কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের শেষ নাগাদ এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এর ফলে ওই অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতি ২০ হাজারের বেশি নাবিক ও মেরিন এবং শত শত উড়োজাহাজে উন্নীত হতে পারে।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন নৌবহরের মধ্যে রয়েছে ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ ও ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন বিমানবাহী রণতরী এবং ইউএসএস বক্সার অ্যাম্ফিবিয়াস রেডিনেস গ্রুপ। নতুন বাহিনী যোগ হলে অঞ্চলটিতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় পর্যায়ে পৌঁছাবে।
এই সামরিক শক্তি বাড়ানোর খবর এমন সময়ে এল, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সংঘাত নিয়ে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি। ট্রাম্প বলেছেন, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের বিরুদ্ধে আবারও বড় ধরনের হামলা হতে পারে। তবে তিনি ভবিষ্যৎ পদক্ষেপের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানাননি।
এর আগে ইরান সাত দিনের যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিল বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। প্রস্তাবের অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরুর বিষয়ও ছিল। ট্রাম্প ওই প্রস্তাবকে যথেষ্ট নয় বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ার প্রভাব জ্বালানি বাজারেও পড়ছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের বড় একটি অংশ পরিবাহিত হওয়ায় অঞ্চলটিতে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা তেলের বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে। শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০১ ডলারের ওপরে ছিল।
এদিকে সৌদি আরব ও কাতারের গুরুত্বপূর্ণ তেল-গ্যাস স্থাপনা সুরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত দুটি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠিয়েছে বলেও মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে। ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়লে এসব স্থাপনায় হামলার আশঙ্কা থেকেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
মার্কিন বাহিনীর নতুন এই মোতায়েনকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের পরবর্তী পরিস্থিতির জন্য ওয়াশিংটনের সামরিক প্রস্তুতি জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে নতুন করে সরাসরি সামরিক অভিযান শুরু হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
✍️ মন্তব্য লিখুন