
মিলান প্রতিনিধি | বাংলার প্রভাত:
ইতালির Milan শহরে যথাযোগ্য মর্যাদা, গভীর ভাবগাম্ভীর্য এবং উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের ৫৫তম বার্ষিকী।
মিলানস্থ বাংলাদেশ কনসুলেট জেনারেল কার্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে প্রায় ৪০টিরও বেশি দেশের দূতাবাস ও কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, কূটনীতিক, স্থানীয় প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, ইতালি-বাংলাদেশি কমিউনিটির রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে করে তোলে অনন্য ও আন্তর্জাতিক মাত্রার।
অনুষ্ঠানের শুরুতে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এরপর পরিবেশিত হয় বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত, যেখানে উপস্থিত সকলেই দাঁড়িয়ে সম্মান জানান।


দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্যে রাখেন কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ রফিকুল আলমপাঠ করা হয় বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বাণী। তিনি মহান স্বাধীনতার তাৎপর্য তুলে ধরার পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস গভীরভাবে তুলে ধরেন এবং স্বাধীনতার ঘোষক বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি, সেনাপ্রধান এবং মুক্তিযোদ্ধা মেজর জিয়াও রহমানের এর অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ এবং যুদ্ধকালীন নির্যাতিত মা-বোনদের অসামান্য অবদানের কথাও উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি এবং ইতালির সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। ভবিষ্যতে এ সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


এছাড়া Milan-এর ভারপ্রাপ্ত মেয়র তাঁর বক্তব্যে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে এমন আয়োজনকে স্বাগত জানান এবং ইতালিতে বাংলাদেশি কমিউনিটির ইতিবাচক অবদানকে ভূয়সী প্রশংসা করেন।
অনুষ্ঠানের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ছিল ইতালি ও বাংলাদেশের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে কেক কাটা। কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ রফিকুল আলম আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে এই কেক কাটেন।
পরবর্তীতে পরিবেশন করা হয় ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি খাবারের সমৃদ্ধ নৈশভোজ ও বুফে, যা অতিথিদের মধ্যে এক আনন্দঘন ও মিলনমেলার পরিবেশ সৃষ্টি করে। অনুষ্ঠান শেষে কুশল বিনিময়ের মধ্য দিয়ে দিনের কার্যক্রম সমাপ্ত হয়।
উল্লেখ্য, প্রবাসে এ ধরনের আয়োজন কেবল জাতীয় দিবস উদযাপনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে তুলে ধরার এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

✍️ মন্তব্য লিখুন