এম জি বাবর (নোয়াখালী) প্রতিনিধিঃ
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে ভূমি অফিস গুলোর অ্যাপসে ৪৮টি মৌজার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে নামজারি সৃজন, খতিয়ান সংগ্রহ সহ নানা রকম ভোগান্তিতে জনগনের মাঝে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
উপজেলার আলাইয়ারপুর ইউনিয়নের আলাইয়ারপুর গ্রামের ভুক্তভোগী আশ্রাফুল ইসলাম নোমান ও মোস্তফা মিয়া বলেন, নামজারি খতিয়ান সৃজন ও চূড়ান্ত প্রিন্ট খতিয়ান সংগ্রহ করার জন্য ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গেলে ভূমি অফিসে লোকজন বলছে, আলাইয়ারপুর ও হীরাপুর এবং আমানউল্যাপুর সহ কয়েকটি মৌজার সন্ধান অ্যাপসে পাওয়া যাচ্ছে না। এতে কয়েক মাস ধরে হতাশ হয়ে আছি। কারন জটিল ও কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়ে আমরা জমি বিক্রি করতে পারছি না। তাই টাকার অভাবে শরীরের মারাত্মক রোগের চিকিৎসা করতে না পারায় মৃত্যু মুখে আছি।
জানা যায়, বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভা ও ১৬টি ইউনিয়নে ১শ ৮৮টি মৌজা রয়েছে। এর মধ্যে ৪৮টি মৌজার নামজারি, জমা-খারিজ সৃজন ও চূড়ান্ত খতিয়ান সংগ্রহ করা যাচ্ছে না। কারন ভূমি অফিসের অ্যাপসে মৌজা গুলো খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এতে হাজার হাজার মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। কখন এই দুর্ভোগ থেকে মানুষ মুক্তি পাবে তা ভূমি অফিসের লোকজনও নিশ্চয়তা দিতে পারছে না। তারা শুধু বলে সমস্যার সমাধানের জন্য লিখিত ভাবে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করি অচিরেই ফল আসতে পারে।
বেগমগঞ্জ সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ সাদাত হোসেন বলেন, আর.এস, বি.এস মৌজা এস.এ আবার এস.এ মৌজা আর.এস, বি.এস মৌজায় উল্টো পাল্টা হওয়ায় অ্যাপসে সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। সমস্যা সমাধানের জন্য ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে তালিকা সংগ্রহ করে জেলায় পাঠানো হয়েছে। তারা ভূমি মন্ত্রনালয়ে সংশোধনের জন্য প্রেরন করেন বলে জেনেছি। ফলে সহসাই সমস্যা নিরসন হয়ে যেতে পারে।
নোয়াখালী জেলা রেকর্ড রুমের রেকর্ড কিপার এনায়েত করিম বলেন, জেলার ১শ ৩৬টি মৌজা অনলাইন অ্যাপসে নাই। এর মধ্যে বেগমগঞ্জ উপজেলায় সব ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহসিলদারদের মাধ্যমে ৪৮টি মৌজার তালিকা পেয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রতিবেদন আকারে পাঠানো হলেও দীর্ঘদিন ধরে কোন সমাধান হয়নি। যদি মন্ত্রনালয় সংশোধন করে দেয় তাহলে জনগনের দুর্ভোগ লাঘব হবে।

✍️ মন্তব্য লিখুন