শেরপুর, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
জন্ম থেকে শুরু করে বেড়ে ওঠা—সবকিছুই একসঙ্গে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার উচ্চশিক্ষার পথচলাও শুরু হলো একই বিশ্ববিদ্যালয়ে। শেরপুরের যমজ দুই ভাই শাকিবুল হাসান জনি ও রাকিবুল হাসান রনি ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন দেশের অন্যতম শীর্ষ বিদ্যাপীঠ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়-এ, যা তাদের পরিবার ও এলাকার জন্য এক গর্বের অধ্যায় হয়ে উঠেছে।
প্রথমবারেই ইতিহাস
শেরপুর সদর উপজেলার মোবারকপুর বাঁশতলা গ্রামের বাসিন্দা এই দুই ভাই-ই প্রথম, যারা তাদের এলাকা থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়-এ ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। এতে স্থানীয়দের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে আনন্দ ও গর্বের আবহ।
তারা দুজনই শেরপুর সরকারি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক এবং শেরপুর সরকারি ভিক্টোরিয়া একাডেমি থেকে মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। ছোটবেলা থেকেই একসঙ্গে পড়াশোনা করা এই দুই ভাইয়ের লক্ষ্যও ছিল একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়া।
ভর্তিযুদ্ধে সাফল্য
ভর্তি পরীক্ষায় শাকিবুল হাসান জনি শিফট-১-এ মেধাতালিকায় ১৬৫৭তম হয়ে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। অন্যদিকে রাকিবুল হাসান রনি শিফট-২-এ ২৭৫৪তম হয়ে পপুলেশন সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট বিভাগে চান্স পেয়েছেন।
বর্তমানে তারা সাবজেক্ট মাইগ্রেশন প্রক্রিয়া চালু রেখেছেন, যাতে আরও পছন্দের বিষয়ে পড়ার সুযোগ পাওয়া যায়।
পরিবারের স্বপ্ন ও সংগ্রাম
রাকিবুল হাসান রনি বলেন, “আমাদের বড় বোন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়-এ ফাইনাল ইয়ারে পড়ছেন। বাবা-মা অনেক কষ্ট করে আমাদের বড় করেছেন। আমরা প্রতিষ্ঠিত হয়ে তাদের সেই কষ্ট লাঘব করতে চাই।”
শাকিবুল হাসান জনি বলেন, “অনেকে বলেছিল আমরা আলাদা বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পাবো। কিন্তু আমাদের মা-বাবা সবসময় দোয়া করতেন যেন আমরা একসঙ্গে থাকতে পারি। আল্লাহর রহমতে তা সম্ভব হয়েছে। মা-বাবার মুখে যে আনন্দ দেখেছি, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।”
বাবার গর্ব, শিক্ষকের প্রশংসা
তাদের পিতা মো. আলমগীর হোসেন বলেন, “দুই ছেলে একসঙ্গে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়েছে—এটা আমার জন্য অনেক গর্বের। এখন আমার তিন সন্তানই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে, যা যেকোনো বাবার জন্য স্বপ্নের মতো।”
প্রফেসর মো. আবদুর রউফ, অধ্যক্ষ, শেরপুর সরকারি কলেজ বলেন, “তারা দুজনই অত্যন্ত মেধাবী ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থী। তাদের এই অর্জন অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।”
অনুপ্রেরণার নতুন দিগন্ত
স্থানীয়দের মতে, জনি ও রনির এই সাফল্য শুধু একটি পরিবারের নয়, বরং পুরো এলাকার জন্য নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে। তাদের এই অর্জন প্রমাণ করে—সঠিক দিকনির্দেশনা, পরিশ্রম এবং পরিবারের সমর্থন থাকলে যেকোনো সীমাবদ্ধতা জয় করা সম্ভব।
এই দুই যমজ ভাইয়ের গল্প শুধু একাডেমিক সাফল্যের নয়, বরং স্বপ্ন, সংগ্রাম ও পারিবারিক বন্ধনের এক অনন্য উদাহরণ—যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করবে।
✍️ মন্তব্য লিখুন