প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬
দেশের বিভিন্ন এমপিওভুক্ত স্কুল ও কলেজে জাল ও ভুয়া সনদ ব্যবহার করে নিয়োগ পাওয়া ৪৭১ শিক্ষক-কর্মচারীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তদন্তে তাদের অনিয়ম প্রমাণিত হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের এমপিও সুবিধা বাতিলসহ আইনানুগ শাস্তির আওতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) সাম্প্রতিক নিরীক্ষায় এসব ভুয়া সনদধারী শিক্ষক-কর্মচারী শনাক্ত হন। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরকে (মাউশি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো নির্দেশনায় বলা হয়েছে, তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের এমপিও (Monthly Payment Order) বাতিলের পাশাপাশি চাকরিকালে নেওয়া বেতন-ভাতাও রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত নেওয়ার উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫’ অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, জাল সনদ ব্যবহার এবং প্রভাব খাটানোর অভিযোগ ছিল। সাম্প্রতিক নিরীক্ষায় এসব অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। এর ফলে শুধু ব্যক্তি পর্যায়ে নয়, সংশ্লিষ্ট নিয়োগ প্রক্রিয়া ও প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধেও তদন্তের আওতা বাড়তে পারে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা বলছেন, শিক্ষা খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এই ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও কঠোরভাবে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে বলেও জানান তারা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জাল সনদধারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে প্রকৃত যোগ্য প্রার্থীদের জন্য ন্যায়সঙ্গত সুযোগ নিশ্চিত করতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
এদিকে, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অনিয়মে জড়িতদের চিহ্নিত করে শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহল।
✍️ মন্তব্য লিখুন