আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ভূগর্ভস্থ মিসাইল স্থাপনাগুলো দ্রুত পুনরায় সচল করার কাজ শুরু করেছে ইরান। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে প্রকাশিত একাধিক আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশটির সামরিক বাহিনী ও প্রকৌশল ইউনিটগুলো ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামত করে গুরুত্বপূর্ণ মিসাইল ঘাঁটিগুলো আবারও ব্যবহারের উপযোগী করে তুলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অন্যতম লক্ষ্য ছিল ইরানের ভূগর্ভস্থ মিসাইল নেটওয়ার্কের কার্যক্ষমতা কমিয়ে আনা। হামলায় বিভিন্ন টানেলের প্রবেশপথ, সংযোগ সড়ক এবং মিসাইল উৎক্ষেপণ-সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে নতুন স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যাচ্ছে, ইরান দ্রুততার সঙ্গে এসব স্থাপনায় পুনর্গঠন কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, লক্ষ্যবস্তু হওয়া ১৮টি ভূগর্ভস্থ মিসাইল স্থাপনার ৬৯টি প্রবেশপথের মধ্যে অন্তত ৫০টি আবারও খুলে দেওয়া হয়েছে। বুলডোজার, লোডার ও ভারী নির্মাণযন্ত্র ব্যবহার করে টানেলগুলোর প্রবেশমুখ থেকে ধ্বংসাবশেষ সরানো হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো সংস্কার করা হচ্ছে।
সামরিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ইরানের বহু মিসাইল ভাণ্ডার শত শত মিটার গভীরে নির্মিত হওয়ায় সরাসরি হামলায় সেগুলোর বড় অংশ অক্ষত থাকতে পারে। ফলে প্রবেশপথ পুনরুদ্ধার করা গেলে সংরক্ষিত মিসাইল ও উৎক্ষেপণ ব্যবস্থাগুলো আবারও কার্যকর হওয়ার সুযোগ পাবে।
এদিকে মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নের বরাত দিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ইরান শুধু ক্ষতিগ্রস্ত ঘাঁটি পুনরুদ্ধারই করছে না, পাশাপাশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতাও পুনর্গঠন করছে। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থার তুলনায় নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে পুনরুদ্ধারের গতি প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত।
তবে ইরানের প্রকৃত সামরিক সক্ষমতা কতটা অক্ষুণ্ন রয়েছে, তা নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। কিছু গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে দেশটি উল্লেখযোগ্য অংশের মিসাইল ও উৎক্ষেপণ সক্ষমতা ধরে রাখতে পেরেছে, যদিও মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের কেউ কেউ এসব সংখ্যার যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে ইরানের ভূগর্ভস্থ মিসাইল ঘাঁটিগুলোর পুনরুদ্ধার আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব স্থাপনার পুনরায় সক্রিয় হয়ে ওঠা ভবিষ্যৎ কৌশলগত সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে এবং অঞ্চলের সামরিক ভারসাম্য নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে।
✍️ মন্তব্য লিখুন