আন্তর্জাতিক ডেস্ক
জাতিসংঘের দুটি সংস্থা জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে পৃথক দুটি নৌকাডুবির ঘটনায় ৫০০ জনেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঘটনাটি সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে ভয়াবহ সমুদ্রপথের শরণার্থী ট্র্যাজেডিগুলোর একটি বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নৌকাগুলোতে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য এবং বাংলাদেশের শরণার্থী শিবির থেকে আসা রোহিঙ্গারা ছিলেন। উন্নত জীবন ও নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে তারা সমুদ্রপথে যাত্রা করেছিলেন। একটি নৌকা যাত্রা শুরুর কিছুদিন পরই নিখোঁজ হয়ে যায়, আরেকটি মিয়ানমারের উপকূলের কাছে ডুবে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (UNHCR) এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (IOM) জানিয়েছে, উভয় ঘটনার বিস্তারিত তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য জীবিতদের সন্ধানে উদ্ধার তৎপরতা জোরদার এবং সমুদ্রপথে বিপদগ্রস্ত শরণার্থীদের সহায়তায় আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, মিয়ানমারে চলমান সংঘাত, নিপীড়ন, রাষ্ট্রহীনতা এবং বাংলাদেশে শরণার্থী শিবিরে সীমিত সুযোগ-সুবিধার কারণে অনেক রোহিঙ্গা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া ও অন্যান্য দেশে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। তবে বর্ষাকাল, বৈরী আবহাওয়া এবং অনিরাপদ নৌযানের কারণে এসব যাত্রা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রোহিঙ্গাদের জন্য বঙ্গোপসাগর ও আন্দামান সাগরের সমুদ্রপথ বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী শরণার্থী রুটগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি নিরাপদ অভিবাসন ব্যবস্থা, কার্যকর উদ্ধার অভিযান এবং রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন