আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের পতনই ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য বলে অভিযোগ করেছে Iran। দেশটির রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব দাবি করেছে, সাম্প্রতিক যৌথ হামলা কেবল পারমাণবিক স্থাপনা বা সামরিক সক্ষমতা ধ্বংসের উদ্দেশ্যে নয়; বরং তেহরানের বিদ্যমান শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করে সরকার পরিবর্তনের কৌশল হিসেবেই পরিচালিত হচ্ছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও Israel পরিকল্পিতভাবে দেশটির সামরিক নেতৃত্ব, রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো এবং কৌশলগত স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে। বিশ্লেষকদের একাংশও মনে করছেন, সাম্প্রতিক হামলার ধরন এবং রাজনৈতিক বক্তব্যে “রেজিম চেঞ্জ” বা সরকার পরিবর্তনের ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া সংঘাতের পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমন্বিত সামরিক অভিযানে ইরানের সামরিক অবকাঠামো, ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং নেতৃত্ব কাঠামোকে বড় ধরনের আঘাত করা হয়।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দাবি করছে, তাদের সামরিক অভিযান মূলত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন বন্ধ করার লক্ষ্যেই পরিচালিত হচ্ছে। তবে তেহরান এই ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করে বলছে, প্রকৃত উদ্দেশ্য হচ্ছে ইসলামিক রিপাবলিক ব্যবস্থাকে ভেঙে দেওয়া।
চলমান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে কাতার, পাকিস্তান ও ওমানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, তেলের বাজার এবং বৈশ্বিক কূটনীতিতেও এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন