ভোলা প্রতিনিধি
টানা বর্ষণ, জোয়ারের পানি এবং বৈরী আবহাওয়ার কারণে ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও চরাঞ্চলের অন্তত ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। অনেক এলাকায় বসতঘর, রাস্তাঘাট ও আঙিনা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। কর্মহীন হয়ে পড়া নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোতে দেখা দিয়েছে তীব্র খাদ্যসংকট। একই সঙ্গে বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন ও পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিও বেড়েছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে পানি নিষ্কাশনের সুযোগ না থাকায় জলাবদ্ধতা দ্রুত বিস্তৃত হয়েছে। অনেক পরিবার ঘরের ভেতরেই পানি ঢুকে পড়ায় উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। কোথাও কোথাও হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে রয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাকুচিয়া, কলাতলী, হাজিরহাট ও মনপুরা ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল এবং বিভিন্ন চর এলাকা।
বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় দিনমজুর, জেলে, রিকশাচালক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ খেটে খাওয়া মানুষের আয় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে অনেক পরিবারে চুলা জ্বলছে না। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত শুকনো খাবার, চাল-ডাল, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার কয়েকটি স্লুইসগেট দীর্ঘদিন ধরে অকার্যকর এবং বিভিন্ন খাল দখল ও ভরাট হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে পারছে না। এতে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা চরম আকার ধারণ করে। স্থায়ী সমাধানে স্লুইসগেট সংস্কার, খাল পুনঃখনন এবং কার্যকর পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে সমুদ্র ও নদীবন্দরে সতর্কসংকেত বহাল থাকায় নৌযান চলাচলও ব্যাহত হয়েছে। ফলে জেলা সদরসহ দেশের অন্যান্য এলাকার সঙ্গে মনপুরার যোগাযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে, যা দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, টানা বর্ষণের কারণে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং পানি নিষ্কাশনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের তালিকা প্রস্তুত করে প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
✍️ মন্তব্য লিখুন