ডেস্ক প্রতিবেদন
টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ধস ও বন্যায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে চট্টগ্রামসহ দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা। গত পাঁচ দিনে বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলে বন্যা, পাহাড়ধস, দেয়াল ধস ও পানিতে ডুবে অন্তত ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে লাখো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সড়ক যোগাযোগ ও জনজীবন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এর আগে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি ও বান্দরবান এলাকায় পাহাড়ধসসহ বিভিন্ন ঘটনায় বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি ঢল নেমে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। অনেক এলাকায় ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। কোথাও কোথাও সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।
দুর্যোগ মোকাবিলায় বিভিন্ন জেলায় আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। সেখানে দুর্গত মানুষদের জন্য খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টানা ভারী বৃষ্টির সময় পাহাড় কেটে বসতি স্থাপন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসের কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়ে যায়। দুর্যোগপ্রবণ এলাকাগুলোতে আগাম সতর্কতা ও নিরাপদ পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তাঁরা।
এদিকে আবহাওয়া পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুর্গত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন