পঞ্চগড় প্রতিনিধি
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় সাপের কামড়ে আহত এক নারী চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসেন। তবে তাঁর সঙ্গে ছিল আরও একটি অপ্রত্যাশিত ‘সঙ্গী’—যে সাপটি তাঁকে কামড়েছিল, সেটিকেই একটি বয়ামে ভরে হাসপাতালে নিয়ে আসেন তিনি ও তাঁর স্বজনেরা। ঘটনাটি এলাকাজুড়ে কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে।
মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার দেবীডুবা ইউনিয়নের সোনাপোতা এলাকায় নিজ বাড়িতে কাজ করার সময় সাপের কামড়ের শিকার হন ৬০ বছর বয়সী সুমিত্রা রানী। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, একটি বয়াম পরিষ্কার করার সময় হঠাৎ একটি সাপ তাঁর হাতে বা শরীরের অংশে কামড় দেয়। চিৎকার শুনে স্বজনেরা ছুটে এসে সাপটিকে দেখতে পান। তবে সেটি কোন প্রজাতির সাপ, তা নিশ্চিত হতে না পেরে তারা সাপটিকে মেরে না ফেলে একটি বয়ামে আটকে রাখেন। পরে আহত নারীকে নিয়ে দ্রুত দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটে যান।
হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকেরা বয়ামে থাকা সাপটি পর্যবেক্ষণ করে এটিকে বিষধর কোবরা বলে শনাক্ত করেন। রোগীর শারীরিক অবস্থা মূল্যায়নের পর দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা হয় এবং প্রয়োজনীয় অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ করা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, রোগীকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকেরা বলেন, সাপের প্রজাতি শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসা সিদ্ধান্ত গ্রহণে কিছু ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। তবে সাপ ধরতে গিয়ে অতিরিক্ত ঝুঁকি নেওয়া উচিত নয়। সাপের কামড়ের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ করা।
সর্পবিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকদের মতে, সাপের কামড়ের পর সাপটিকে ধরার চেষ্টা করতে গিয়ে অনেক সময় আরও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এতে রোগীর হাসপাতালে পৌঁছাতে বিলম্ব হয় এবং ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই সাপের কামড়ের ক্ষেত্রে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত চিকিৎসাকেন্দ্রে যাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ।
বাংলাদেশে প্রতি বছর বহু মানুষ সাপের কামড়ের শিকার হন। বিশেষ করে বর্ষাকালে গ্রামীণ এলাকায় এ ধরনের ঘটনা বৃদ্ধি পায়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ এবং কুসংস্কার এড়িয়ে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করছেন।
✍️ মন্তব্য লিখুন